cosmetics-ad

ইংরেজিই বোঝেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা!

gibs

সিলেট থান্ডারের কোচ হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক মারকুটে ব্যাটসম্যান হার্শেল গিবসের অধীনে সিলেট থান্ডার এবার একেবারেই বাজে একটি দল হিসেবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। ৮ ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে কেবল একটি ম্যাচ। পয়েন্ট টেবিলেরও তলানীতে।

কেন এমন অবস্থা? সিলেটের কোচ হয়ে ঢাকায় আসার পর নিজের পরিকল্পনা, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কখনোই মিডিয়ার মুখোমুখি হননি। তবে, এবার বিপিএল সিলেট যাওয়ার পর মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন তিনি এবং সেখানেই মনখুলে অনেক কথা বললেন।

যার মধ্যে সারমর্ম হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অনেক প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে ভাষার দুরত্ব মোটেও কমেনি। বরং, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ইংরেজি বোঝেন না। এই না বোঝার কারণে দেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে তার।

বাংলাদেশ দলের সাবেক পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ দীর্ঘ সময় ধরে টাইগারদের সঙ্গে কাজ করে বিদায় নিয়েছেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পরপরই। কিন্তু তার অধীনে পেস ডিপার্টমেন্টের কোনো উন্নতিই হয়নি। কেন হয়নি? ভাষার প্রতিবন্ধকতা। ওয়ালশের ইংরেজিই বুঝতো না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। যার ফলে কাংখিত মানে উন্নতি করতে পারেননি ওয়ালশ।

শুধু তাই নয়, সামর্থ্য এবং প্রতিভা সবই আছে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি বুঝতে না পারলে, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারলে তো ম্যাচে এমন অবস্থা হবেই। হার্শেল গিবসের মতে, ম্যাচের পরিস্থিতিও বুঝতে পারেন না লোকাল (স্থানীয়) ক্রিকেটাররা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে গিবসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিপিএলের মান কেমন মনে হয়েছে আপনার কাছে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মান এমনিতে ভালো। বিশ্বজুড়ে লিগগুলোয় খেলছে, এমন অনেক ক্রিকেটার আছে এখানে। এজন্য তাদের কাছে প্রত্যাশাও বেশি যে নিজেদের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করবে তারা।

তবে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে একটি বড় বাঁধা হলো, তাদের অনেকেই ইংরেজি বোঝে না। আমার জন্য তাই তাদেরকে অনেক কিছুই বোঝানো কঠিন। এটি খুবই হতাশার। আমি যখন কথা বলি, দেখি যে তারা শুনছে। কিন্তু দেখেই বুঝতে পারছি যে, এসব তাদের মাথায় ঢুকছে না। অনুধাবন করতে পারছে না।’

মাঠে পরিস্থিতি এবং খেলা বোঝার মান বাড়ানোর তাগিদ গিবসের কন্ঠে। তিনি বলেন, ‘খেলাটা নিয়ে তাদের সার্বিক বোঝাপড়ার মান আরও বাড়াতে হবে। একটা বড় ব্যাপার হলো, তারা খুবই টেম্পারামেন্টাল। ওদের কাছে কিছু ব্যাখ্যা করাই কঠিন আমার জন্য। কারণ তারা বুঝতেই পারে না।

একটি উদাহরণ দেই, সেদিন রুবেল মিয়া ব্যাটিং ওপেন করেছে। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ২৮ বলে ১৪। টাইম আউটের সময় আমি মাঠে গিয়ে তাকে বললাম, ‘হচ্ছেটা কি? ২৮ বলে ১৪ রান! (হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং ইউ গট ১৪ অফ ২৮ বলস?’ আমার কথা শুনে সে তখন শুধু ওপর-নিচে মাথা নাড়ল। এটা তার দোষ নয়, কিন্তু বাস্তবতা।’

এখনও ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে না পারাটা হতাশার বলে মনে করেন গিবস। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে না পারার বড় একটি উদাহরণ এটি। ২০২০ সাল চলে এসেছে এখন। এখনও যদি একজন ব্যাটসম্যান বুঝতে না পারেন যে ২৮ বা ২৫ বলে ১৪ রান করলে আমাকে সেখান থেকে চালিয়ে যেতে হবে ও পুষিয়ে দিতে হবে, তাহলে খুবই হতাশার। হতে পারে, আমি খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছিলাম। হতে পারে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়ে একটু বেশিই আশা ছিল আমার।’

উন্নতি করার জন্য সাকিব আল হাসানের উদাহরণ টেনে আনেন গিবস। তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো, গড়পড়তা মানের চেয়ে ভালো ক্রিকেটার তারাই, যারা ম্যাচ পরিস্থিতি ভালো পড়তে পারে। সাকিব আল হাসানের কথাই ধরুন, ক্রিকেট নিয়ে তার বোঝাপড়া ও ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারায় গত বছর দুয়েকে তার অনেক উন্নতি হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপে তার খেলার দিকে যদি তাকান, সে কিন্তু নিজেকে থিতু হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। গিয়েই ধুমধাম মারতে শুরু করেনি। তার ইনিংসগুলোর টাইমিং ছিল ভালো। এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলি স্থানীয় ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে, যদি তারা নিজেদের খেলাকে পরের ধাপে নিয়ে উন্নীত করতে চায়। এটিই খেলার মানসিক দিক।’

তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছেন গিবস। অন্তত তার কথাটা বোঝাতে। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করতে পারি কথা বলতে, তাদেরকে বোঝাতে। কিন্তু তারা যদি বুঝতেই না পারে, তাহলে আমার কিছু করার নেই। এরকমই হচ্ছে।’