
জানাজার নামাজ শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে।
বুধবার বেলা তিনটায় নামাজে জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। বেগম জিয়ার জানাজাকে ঘিরে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সরকারের প্রতিনিধি, কূটনীতিকসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছেন।
এর আগে ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অগণিত মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে রাজধানীজুড়ে জনস্রোত তৈরি করে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ কৃতজ্ঞ জাতি তার শেষ বিদায়বেলায় সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, আজকের এই মহাসমুদ্র তারই প্রমাণ।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তাঁর জীবন ও কর্ম সবার উদ্দেশে তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এছাড়াও পরিবার ও দলের পক্ষ্য থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন।
এর আগে আজ সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে শেষবারের মতো গুলশানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে কফিনবাহী গাড়িটি দুপুর পৌনে ১১টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহের সঙ্গে লাল-সবুজ রঙের বাসে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বড় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা জানাজাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
জানাজা শেষে এখন মরদেহ শেরেবাংলা নগরে নেওয়া হচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিদায়ে সরকার দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে সমগ্র দেশ এখন শোকাতুর।



































