
সংগৃহীত ছবি
মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত নার্স-স্টাফদের গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ছিল এবং পরিবেশও চিকিৎসাসেবার উপযোগী ছিল না।
মন্ত্রী বলেন, তদন্তে অপরাধ ও অবহেলার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় পুরো প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটির বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছিল। দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এবং বিকল্প বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের জন্য প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘটনাকে কেবল অবহেলা নয়, একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং আদালতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।












































