
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভ্রাম্যমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিট (মোবাইল টহল ইউনিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরে জারি করা এ নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, আসনভিত্তিক জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় গঠিত ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। উপজেলা ও মেট্রোপলিটন (থানা) পর্যায়ে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভাপতি হবেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে গঠিত কমিটিগুলো নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। এসব কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, আচরণবিধি ও আইন প্রয়োগ, ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার, ভ্রাম্যমাণ টহল পরিচালনা এবং যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও দল-নিরপেক্ষ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এবং উপজেলা ও থানা পর্যায়েও অনুরূপ ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠনের কথা বলা হয়েছে। কমিটি গঠনের পর সদস্যদের নাম ও মোবাইল নম্বর জরুরি ভিত্তিতে কমিশনে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা তদারকি করবে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে, মামলা বা অভিযোগ দায়ের করবে এবং প্রতিদিন পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠাবে। একই সঙ্গে প্রার্থী, দল ও এজেন্টদের আচরণবিধি ও তা ভঙ্গের শাস্তি, বিশেষ করে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি আসনে নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন করে প্রতি তিন দিন অন্তর অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করে নিয়মিতভাবে কমিশনকে অবহিত করতে হবে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে অভিযোগের তাৎক্ষণিক তদন্ত, নারী ভোটারসহ সব ভোটারকে নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে জেলা পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


































