মঙ্গলবার । মার্চ ১৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিজনেস ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

৩০তম বাণিজ্য মেলায় ৬১৭ কোটির ব্যবসা ও ২২৪ কোটির বিদেশি ক্রয়াদেশের রেকর্ড


Trade Fairবাণিজ্যিক সাফল্য এবং নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি সম্ভাবনার ইতিবাচক বার্তা দিয়ে পর্দা নামলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬-এর। পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা মাসব্যাপী এই মেলায় মোট ৬১৭ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় ও রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। 

গত শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই অর্জনের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। এবারের মেলায় দেশীয় ক্রেতারা ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য ও সেবা কেনাকাটা করেছেন এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা বা ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি আদেশ এসেছে।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। 

এবারের আসরে ৩২৯টি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যাদের মধ্যে নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য, পণ্য প্রদর্শন এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মতো বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। 

আয়োজকদের মতে, এবারের মেলার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বড় অংকের রপ্তানি আদেশ। বিদেশি ক্রেতারা বিশেষ করে বাংলাদেশের বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে। মাসজুড়েই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল এবং পোশাক, ফার্নিচার ও গৃহসজ্জা পণ্যের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

এবারের মেলায় নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কারাবন্দিদের তৈরি বাঁশের পণ্য, জয়িতা ফাউন্ডেশনের অর্গানিক সামগ্রী এবং তাঁত বোর্ডের ঢাকাই মসলিন দর্শকদের ভীষণভাবে আকর্ষণ করেছে। পাশাপাশি টি-বোর্ডের ব্লু টি এবং জেডিপিসির পাটের ট্যাপেস্ট্রির মতো পণ্যগুলো মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, শিশুপার্ক এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মতো সুযোগ-সুবিধা থাকায় এবারের বাণিজ্য মেলা কেবল কেনাকাটার কেন্দ্র নয়, বরং সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।