
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার জন্য রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই দায়ি বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরে পণ্য ও সেবার চাহিদা কমিয়েছে এবং কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতির প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫–সূত্রে এ এসকল তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনে নেপালের উদাহরণ টানতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিও একই বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
১০ এপ্রিল এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এপ্রিল সংস্করণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে এডিবি।

তবে ওই আউটলুকে এডিবি এ–ও বলছে, জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী, মানুষের কী কাজে লাগে
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলো একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার বা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কত শতাংশ বৃদ্ধি পেল, তার পরিমাপ। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বা উন্নতির অন্যতম প্রধান সূচক।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যই জিডিপির আকার।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লে সাধারণত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি সচল থাকে। তবে অনেক সময় প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার মান বা প্রকৃত আয় সেই হারে বাড়ে না। এ জন্য উন্নয়নের সুফল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, তথা গরিব মানুষকে পেতে হবে।
গত বছর ৫২১ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি
এডিবি বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫–এর কোন দেশকে কত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেই হিসাবের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে সব মিলিয়ে ৫২১ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছে এডিবি। এর মধ্যে ঋণ ও অনুদান হলো ২৫৭ কোটি ডলার। আর বেসরকারি খাত এবং অন্যান্য দাতা সংস্থার সঙ্গে সহ–অর্থায়নকারী হিসেবে বাকি অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
দুর্বল ব্যাংক খাত
ব্যাংক খাত সম্পর্কে এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যাংক খাত প্রধান হলেও দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং মূলধনের ঘাটতি দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা দিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হচ্ছে এবং অনেক পরিবারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এডিবি বলছে, ২০২৫ সালে এডিবি বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে, যা ব্যাংক তদারকি শক্তিশালী করা, শাসনব্যবস্থা ও সম্পদের মান উন্নয়ন এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ব্যবহৃত হবে। এ কর্মসূচি ডিজিটালাইজেশন বাড়াবে, সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ বিস্তৃত করবে, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে এবং ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আধুনিকায়নে এডিবি সহায়তা দিয়েছে, যার মাধ্যমে সম্পদের মান, মূলধন তারল্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা উন্নত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া দেশের পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে এডিবি অর্থায়ন করছে বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে এডিবি। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জীবনমান রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে এডিবি অর্থায়ন করছে, তা–ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।











































