
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত ব্যাপক অর্থ পাচার ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না। মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি মিলেছে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে।
সংসদে ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। বছরে গড়ে যার পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে একই অধিবেশনে ফ্রিল্যান্সিং খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষকে ফ্রিল্যান্সার কার্ড দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনকে এ কার্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।





































