
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরণের আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দেশটিতে অবস্থানরত এবং নতুন করে আসতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে ‘ইউনিফাইড কোড’ বা একক আইনি কাঠামো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ইতালির সিনেটে এই সংক্রান্ত একটি নতুন বিলের ওপর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা কার্যকর হলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ইতালির বর্তমান অভিবাসন আইনকে ইইউ-এর সাতটি প্রধান রেগুলেশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এই ‘ইউনিফাইড কোড’ কার্যকর হলে ইতালির বিচ্ছিন্ন আইনগুলো একটি সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী আইনি কাঠামোর আওতায় চলে আসবে।

নতুন আইনের খসড়ায় অভিবাসীদের আটক রাখা, সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত বহিষ্কারের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক তথ্যসহ উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে অবৈধ প্রবেশকারীদের গতিবিধি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য অনেক সহজ হবে।
এই সংস্কারের আওতায় ইতালিতে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের সকল তথ্য এখন থেকে সরাসরি ইউরোপীয় ‘ইউরোড্যাক’ ডেটাবেসের সাথে যুক্ত থাকবে। এর ফলে ইতালিতে আসা প্রত্যেক ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন এবং তাদের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোনো ব্যক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেলেও তার তথ্য আড়াল করার সুযোগ থাকবে না।
তবে বিলে সবক্ষেত্রেই কঠোরতা দেখানো হয়নি। অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ইতালিতে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে অবস্থানরত বিদেশি তরুণ-তরুণীদের জন্য কিছু বিশেষ বিধান ও সুরক্ষাকবচ রাখা হয়েছে। তাদের আইনি প্রক্রিয়া ও অবস্থান যেন আরও সুনির্দিষ্ট এবং সুরক্ষিত হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের এই পদক্ষেপ ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের একটি প্রতিফলন। এই সংস্কার কার্যকর হলে ইতালির অভিবাসন ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত ও কঠোর হবে, যা অনিয়মিত উপায়ে দেশটিতে প্রবেশের প্রবণতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে বলে মনে করছে সরকার।
ইতালির নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনিয়মিত অভিবাসন এবং আশ্রয়ের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াতেও বড় ধরণের আমূল পরিবর্তন আসবে।












































