শনিবার । এপ্রিল ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

পরকীয়ায় বলি প্রবাসীর স্বপ্ন: সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব ইতালি ফেরত কাদির


kadir-rijina

ইতালি প্রবাসী স্বামী কাদির হোসাইনের সঙ্গে স্ত্রী রোজিনা আক্তার তিশা।

ইতালির প্রচণ্ড শীতে হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঘাম ঝরানো উপার্জনে দেশে একটি সুখের নীড় বাঁধতে চেয়েছিলেন কাদির হোসাইন। লক্ষ্য ছিল স্ত্রী ও ৪ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সাজানো সংসার অন্ধকার করে সারা জীবনের সঞ্চয় ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রী লাপাত্তা হওয়ায় এখন দিশাহারা এই প্রবাসী।

২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার হিজলা গ্রামের রোজিনা আক্তার তিশার সঙ্গে বিয়ে হয় পাশের দাঁড়িপাড়া গ্রামের কাদির হোসাইনের। কাদির প্রবাসে থাকায় এবং তার মা-বাবা না থাকায় উপার্জিত সব টাকা ও স্বর্ণালংকার স্ত্রীর কাছেই গচ্ছিত ছিল। গত ১ এপ্রিল দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তিশা ঘর থেকে সব স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে প্রতিবেশী ভাড়াটে যুবক হাফেজ নাজমুলের হাত ধরে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় নিজের ৪ বছরের অবুঝ সন্তানকেও সঙ্গে নেননি তিনি।

কাদিরের ছোট ভাই উজ্জ্বল ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাদির যে অর্থ পাঠাতেন, তা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে ওঠে এই সংসার। কিন্তু তিশা পরকীয়ায় জড়িয়ে স্বামীর পাঠানো টাকা দিয়ে প্রেমিক নাজমুলকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মোটরসাইকেল ও দামী আইফোন কিনে দিয়েছেন। এমনকি ওই টাকায় তারা বিদেশে ভ্রমণও করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেশীরা জানান, একটি সাজানো সোনার সংসার ফেলে এভাবে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে কাদির হোসাইন এখন নিঃস্ব। প্রবাস ছেড়ে দেশে ফিরে স্ত্রীর এমন আচরণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উল্টো অভিযুক্ত পক্ষ এখন তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এই ঘটনায় কাদিরের ভাই উজ্জ্বল বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রবাসীর পরিবার এখন হারানো অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।

কাদিরের প্রতিবেশী আকলিমা জানান, সোনার সংসার রেখে বেকার ভিনদেশি ছেলের সঙ্গে সে কিভাবে পালায়? সুখের সংসার ছিল, এখন বুঝবে সংসার কী? মালিক রেখে কাজের লোকের সঙ্গে পালানো শুধু তার জন্য না সমগ্র মেয়ে জাতির জন্য লজ্জা।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।