
রাজ্যের অলিতে-গলিতে ঘুরে-ফিরে তাই একটাই প্রশ্ন- কে জিতবে? দিদি নাকি মোদি!
২৩ এবং ২৯ এপ্রিল- এই দু’দফায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোট। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ধুন্দমার লড়াই চলছে। তৃণমূল চাইছে মমতা ব্যানার্জির টানা তিনবারের জয়কে চতুর্থ দফায় নিয়ে যেতে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসতে অনেকদিন ধরেই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। রাজ্যের অলিতে-গলিতে ঘুরে-ফিরে তাই একটাই প্রশ্ন- কে জিতবে? দিদি নাকি মোদি!
ভারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য আছে, একটি দিক দিয়ে সেগুলো ব্যতিক্রম। যেমন- পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ এবং আমাদের পাশের পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই রাজ্যগুলোতে কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিজেপি। ১২ বছর আগে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব রাজ্য জয়ের মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে বিজেপি- সেই তালিকার শুরুতেই আছে পশ্চিমবঙ্গ।
পশ্চিমবঙ্গে ভালো একটা সম্ভাবনাও তৈরি করতে পেরেছে তারা। ২০১৬ সালে রাজ্যটিতে মাত্র তিনটি আসন জিতেছিল বিজেপি। এর মাত্র পাঁচ বছর পর ২০২১ সালে এক লাফে ৭৭ আসন জেতে দলটি। এমনকি সেসময় রাজ্যজুড়ে নির্বাচন জয়ের একধরণের বাতাবরণও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল তারা। যদিও শেষশেষ তা আর হয়নি।

এবারও বিজেপির পক্ষ থেকে এক ধরণের মরিয়া চেষ্টা আছে। চেষ্টার অংশ হিসেবে নানা কৌশল এবং বিরোধীদের ভাষায় কেন্দ্রের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ‘অপকৌশলের’ আশ্রয় নিয়েছে দলটি। যার মধ্যে অন্যতম ভোটার তালিকা হালনাগাদ, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এসআইআর হচ্ছে- স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন। সোজা বাংলায় বললে- ভোটার তালিকা থেকে বিশাল সংখ্যক ‘অযোগ্য’ ভোটারদের বাদ দেওয়া।
তৃণমূল কংগ্রেস তথা বিরোধীদের অভিযোগ এসআইআরকে হাতিয়ার করে মূলত বাংলাভাষীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের অধিকাংশই মুসলমান। তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসআইআরের কারণে পশ্চিমবঙ্গের একটি বিশালসংখ্যক ভোটার শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা আছে। আর তারা যদি ভোট দিতে না পারেন তাহলে তার ফায়দা বিজেপির ঘরে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীরা বলছে, এর আগে গেলো বছরের জুনে এসআইআরের নাম করে একই কাজ বিহারে করা হয়েছে এবং সেখানকার নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিশাল জয় পেয়েছে। বিরোধীদের দাবি, একই খেলা পশ্চিমবঙ্গেও খেলতে চাইছে বিজেপি। তবে এক্ষেত্রে তারা কতটা সফল হবে তা জানা যাবে ৪ মে। সেদিন ঘোষিত হবে নির্বাচনের ফল।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় যেতে ২৯৪ আসনের বিধান সভায় জিততে হবে কমপক্ষে ১৪৮টি আসন। গেলো নির্বাচনে বিজেপি ৭৭ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। তাদের সামনে বাকি আরও প্রায় অর্ধেক পথ। এসআইআর, কেন্দ্রের ক্ষমতা, নির্বাচনকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রিয় বাহিনী মোতায়েন এবং সর্বোপরি ভোটের কৌশল দিয়ে কি বিজেপি এই পথ পাড়ি দিতে পারবে? বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কাজটা বেশ কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। বিশেষ করে মোদি-অমিত শাহ জুটির জন্যতো নয়ই। তারা ইতিমধ্যে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। যদিও সেই ক্যারিশমায় ইদানিং কিছুটা ভাটার টান লক্ষনীয়।
ভারতের বেশ কিছু ভোট জরিপ সংস্থার ডেটা মতে- এবারের নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কোনো কোনো জরিপ আবার তৃণমূল কংগ্রেসকে বেশ অনেকটাই এগিয়ে রাখছে।
যদিও টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল তথা মমতা ব্যানার্জির জন্য কাজটা অত সহজও হবে না। মমতার সরকারকে গত ১৫ বছরের কর্মকাণ্ড এবং নানা ইস্যুতে ব্যর্থতার জন্য ‘কাঠগড়ায়’ দাঁড়াতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় দুই দশক পর এবারের নির্বাচনে এককভাবে লড়ছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের মাটিকে শক্ত করতে চাইছে তারা। কংগ্রেস ভেঙেই যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ফলে ২৯৪ আসনের সবগুলোতেই কংগ্রেস প্রার্থী দেওয়ায় তৃণমূলের ভোটব্যাংককে তা প্রভাবিত করবে। তবে কতোটা করবে তা হয়তো সময়ই বলবে।
অন্যদিকে আছে একসময় টানা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা ক্ষয়িষ্ণু বামফ্রন্ট। যদিও তাদের আগের সেই ধার এখন আর নেই। তবে একটা নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক এখনো আছে বামেদের। ভোট ব্যাংকের বাইরের কি পরিমাণ ভোটার এবার বামফ্রন্টের দিকে ঝুঁকবে তার ওপরও ভোটের ফলাফল নির্ভর করবে।
অনেকে তাই ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আশঙ্কাও করছেন। অর্থাৎ তৃণমূল-বিজেপি কোনো দলই মেজোরিটি মার্ক ছুঁতে পারবে না। অন্যদিকে বাম এবং কংগ্রেস কিছুসংখ্যক আসন পাবে। অর্থাৎ ক্ষমতায় যেতে কংগ্রেস এবং বাম দলের সমর্থনের প্রয়োজন হবে তৃণমূল এবং বিজেপির।
যদি এমনটা হয় সেক্ষেত্রেও এগিয়ে থাকবে বিজেপি। কারণ হর্স ট্রেডিং তথা অন্য দলের বিধায়ক ভাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতে বিজেপি’র মতো সক্ষমতা আর কারও নেই। অতীতে বহুবার বহু রাজ্যে তার এই কাজ সফলতার সঙ্গে করেছে। পশ্চিমবঙ্গে তারা নিশ্চয়ই বসে থাকবে না।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল
https://www.youtube.com/watch?v=rxdLMxVX-20










































