
বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ইসরায়েল আবারও আরব বিশ্বের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রত্যাশার উল্টো ফল নিয়ে এসেছে। যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে দুর্বল করা কিন্তু আদতে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধ শুরুর সময় ধারণা করা হয়েছিল, দ্রুতই ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা অটুট রয়েছে এবং ব্যাপক বোমা হামলার পরও তারা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরায়েল আগে দাবি করেছিল, তারা ইরানের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে, তবে বাস্তবে এখনো ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সংঘাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। আগে মনে করা হতো, এই পথ বন্ধ হলে ইরান নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ইরানই নিয়ন্ত্রণ করছে এই প্রণালি দিয়ে কাদের তেলবাহী জাহাজ চলাচল করবে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
যুদ্ধের আগে ইরানের ভেতরে নানা অসন্তোষ থাকলেও অন্য দেশের হামলার কারণে দেশটির ভেতরে এখন জাতীয় ঐক্য আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। অনেক মানুষ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের যোদ্ধারা সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধে অংশ নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব আরব বিশ্বেও পড়েছে। আগে যেসব দেশ ইরানের বিরোধিতা করত, সেসব দেশে এখন ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। সিরিয়া ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে জনমত জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ইসরায়েল আবারও আরব বিশ্বের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোও এই যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের তেল-গ্যাস, বাণিজ্য ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিলেও এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগে তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণকে বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে এবং সহজে তা ছাড়বে না। শুধু যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে তারা এই নিয়ন্ত্রণ ত্যাগ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে।
সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পিছু হটে, তাহলে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে আর্বিভূত হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হচ্ছে, ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে।
ডেভিড হার্স্ট: মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও এডিটর-ইন-চিফ।









































