
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিতরণে ভুলের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুমিল্লার দেবিদ্বার এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দুটি পৃথক কেন্দ্রে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন অদলবদল হওয়ায় চরম বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৫ সালের ১০ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর বিষয়টি নজরে আসলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেন।
ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা ১৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন, যারা নবিয়াবাদ, তুলাগাও, এলাহাবাদ ও রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্ন পরিবর্তনে সময় নষ্ট হলেও পরবর্তীতে তাদের কোনো অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ভুলবশত ২০২৫ সালের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে কেন্দ্রজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়ে ঢাকা বোর্ড থেকে অতিরিক্ত প্রশ্ন সংগ্রহ করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন্দ্র সচিব আব্দুল মতিন সরকার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আলী জিন্নাহ জানান, শিক্ষার্থীদের যে সময় নষ্ট হয়েছিল, তা অতিরিক্ত হিসেবে দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের মত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার একটি কেন্দ্রেও ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শকদের জানালেও তারা তা আমলে নেননি। বরং শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও নষ্ট হওয়া সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিব এবং দুই কক্ষ পরিদর্শক—বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের আরও কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রে (যেমন: মাদ্রাসা বোর্ডের কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ পরীক্ষায়) নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে সেগুলোতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে বা সময় নষ্ট হয়েছে, তাদের খাতা বিশেষ বিবেচনায় মূল্যায়নের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না অভিভাবকরা। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, যার প্রভাব পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও পড়তে পারে। সচেতন মহল ও অভিভাবকরা এই অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।





































