
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সম্প্রতি এক অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মূলত ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর হবে।
গালিবাফ মনে করেন, শত্রুপক্ষ বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ফায়দা লুটতে খুবই আশাবাদী হয়ে উঠেছে। তবে তারা আবারও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই দিতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
গালিবাফ এই পরিস্থিতিকে সরাসরি সামরিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন না; বরং তার মতে এটি ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির একটি পরিকল্পিত কৌশল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।
দেশটিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং রুটি, শস্য, তেল ও চর্বিজাতীয় খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ইরানের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবরোধ আরোপ করার পর থেকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটির তেল রপ্তানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে।
এমন সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে গালিবাফ বলেন, বিভেদ সৃষ্টি করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ড সরাসরি শত্রুর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার স্বার্থে ইরানের জনগণ সব ধরনের প্রতিকূলতা ও চাপ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
গালিবাফের মতে, বহিঃশক্তির এই কৌশল মূলত ইরানিদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা, যা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই নস্যাৎ করা সম্ভব।







































