যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে বাংলাদেশীদের প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরেছেন ১১ জন। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জিবুতি থেকে আসা এমিরেটসের একটি ফ্লাইট তাদের নিয়ে অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইয়েমেনে থাকা বাংলাদেশীদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩০৪ জনকে জিবুতিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের ইয়েমেন থেকে জাহাজে করে জিবুতি নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৭২ জনকে হুদিয়া থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী উদ্ধার করেছে। আর ২০ জনকে সানা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে জিবুতিতে নিয়ে আসা হয়েছে। ২৮৭ বাংলাদেশী জিবুতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এরই মধ্যে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জিবুতিতে ‘প্রত্যাবর্তন কন্ট্রোল রুম’ স্থাপন করেছে। আরো বাংলাদেশী প্রত্যাবর্তনের জন্য ইয়েমেন থেকে জিবুতিতে ফিরে আসবেন বলে ধারণা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৫৩ বাংলাদেশী দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তারা কুয়েতে বাংলাদেশী দূতাবাসে হটলাইনে ফোন করে নিবন্ধন করেছেন বলে কুয়েত দূতাবাস থেকে জানানো হয়। এসব নাগরিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের কাছ থেকে সানায় তিনদিনের জন্য জরুরি উড়োজাহাজ পাঠানোর অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ। জিবুতিতেও উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইয়েমেনের আকাশ পথের নিয়ন্ত্রণ এখন সৌদি আরবের হাতে থাকায় দেশটির সরকারের কাছে সানায় উড়োজাহাজ অবতরণের অনুমতি চায় ঢাকা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২-১৪ এপ্রিল সেখানে বাংলাদেশের উড়োজাহাজ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। কুয়েত দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে ঢাকা। সম্প্রতি দেশটিতে যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ায় বাংলাদেশীদের উদ্ধারে মাহবুব আলমসহ দু’জন কর্মকর্তাকে পাশের জিবুতিতে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের সঙ্গে তুরস্ক দূতাবাস থেকে যোগ দেন আরো দু’জন কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনসুলার অনুবিভাগের মহাপরিচালককে প্রধান করে ইয়েমেনে বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় একটি কমিটি করা হয়। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা রয়েছে। আর এরই মধ্যে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে ভারত ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।



































