cosmetics-ad

দুই কোরিয়ার যু্দ্ধ শুরুর আশঙ্কা কমছে না

ডিডাব্লিউ, ১৪ মার্চ, ২০১৩:

শান্তি চুক্তি নিয়ে অশান্তি৷ উত্তর কোরিয়া প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণের সঙ্গে ১৯৫৩ সাল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি সমাপ্ত করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে উত্তেজনা আর কমছেনা৷কোরীয় উপদ্বীপে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েই যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র৷

সামরিক মহড়া নিয়ে দু পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী৷ দক্ষিণ কোরিয়া এবং তার সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়া কখনো হামলা চালালে তা প্রতিহত করার সামর্থ্য তাদের আছে কিনা, তা নিজেদের মধ্যে একটু পরীক্ষা করে দেখা৷ এমন পরীক্ষার যে একেবারে দরকার নেই, তা উত্তর কোরিয়া অন্তত বলতে পারবেনা৷ একেতো দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কোনো চেষ্টাই তারা করছে না, তার ওপর শত আপত্তি এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরমাণুর পরীক্ষা চালিয়েই যাচ্ছে৷ গত এক বছরেই দুবার পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি৷ তারপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করলেও কোনো লাভ হয়নি৷ উত্তর কোরিয়া কয়েকদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল৷ যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয় হামলা প্রতিহত শুধু নয়, দক্ষিণ কোরিয়াসহ সব মিত্র দেশকে রক্ষা করতেও তারা প্রস্তুত৷

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া নাকি সেই প্রস্তুতিরই পরীক্ষা৷ কিন্তু উত্তর কোরিয়া মনে করে হামলা প্রতিহত করতে নয়, ভেতরে ভেতরে তাদের ওপর হামলা চালানোরই ফন্দি আঁটছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র৷ এক সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব রকমের দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া পাশে পেতো সোভিয়েত ইউনিয়নকে৷ পুঁজিবাদী বিশ্বের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন – এই দুই শিবিরের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতিসহ সবক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগটি এখনো ‘শীতল যুদ্ধের যুগ’ বলে পরিচিত৷

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শীতল যুদ্ধের আর অস্তিত্ব নেই৷ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিশ্বজুড়ে৷ প্রায় ভেঙে পড়া অর্থনীতি আর মাথার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সেই যুক্তরাষ্ট্রকেই হামলার হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া৷ পরমাণুর দ্বিতীয় পরীক্ষার আগ পর্যন্ত পাশে ছিল চীন৷ তারাও জাতিসংঘের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় সম্মতি জানানোয় বন্ধুর অবস্থান ‘শত্রু’ একেবারে বিপরীতে নয়৷ সমীকরণ অনেকটাই নতুন৷ অথচ মঙ্গলবারও আবার যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে পিয়ংইয়ং৷ সামরিক মহড়া চলছে,উত্তর কোরিয়ার আস্ফালনও চলছে৷ যু্দ্ধ শুরুর আশঙ্কাটাও তাই দূর হচ্ছেনা৷