sentbe-top

বিশ্বসেরা কোরিয়ান জিনসেং

কোরিয়াতে এসে জিনসেংয়ের কথা শুনেননি এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। শুধু কোরিয়া নয়, সারা পৃথিবীতেই জিনসেংয়ের সুনাম সর্বজনবিধিত। কোরিয়ান জিনসেং হলেতো কথাই নেই। কোরিয়ান জিনিসেং নিয়ে লিখেছেন মো. মহিবুল্লাহ।

সর্বোৎকৃষ্ট মানের জিনসেং বলে বিবেচিত কোরিয়ান জিনসেং সিউলের সবধরনের বাজার, বিপনি বিতান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়ে থাকে। মানের তারতম্য এবং চীন থেকে আমদানী হওয়া প্রচুর সস্তা জিনসেং বাজারে থাকার কারণে কোরিয়ায় উৎপাদিত খাঁটি প্যানাক্স জিনসেং কেনার জন্য পণ্যের গায়ে সরকার অনুমোদিত “Korea Insam” সিল দেখে নিবেন।

প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর ভিত্তি করে জিনসেং বিভিন্ন রকমের হতে পারে। কেনার জন্য দুটি প্রধান প্রকরণের ব্যাপারে ধারণা থাকা জরুরী। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক অবস্থায় অপ্রক্রিয়াজাত যে জিনসেং পাওয়া যায় তা সুসাম নামে পরিচিত যেটা মূলত কাঁচামাল। এগুলো মূলত হোটেল রুমে মজা করে পরীক্ষামূলক রান্নাবান্না কিংবা জিনসেং চা বানানোর জন্যই মানুষ বেশী কিনে থাকে। তবে জেনে রাখা ভালো, অপ্রক্রিয়াজাত প্রাকৃতিক জিনসেং মূল কোরিয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। “রেড জিনসেং” নামে পরিচিত হংসাম হচ্ছে খোসা না ছাড়ানো মূল, এটি শুকানোর পূর্বে সিদ্ধ করা হয়। হংসামের খাদ্যমান দশ বছরেরও বেশী সময় অপরিবর্তিত থাকে বলে পর্যটকদের কাছে এর কদর বেশি। জিনসেং দিয়ে তৈরি অনেক পন্যও বাজারে পাওয়া যায় যেমন ক্যান্ডি, চা, জেলী এবং শক্তি বর্ধক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল। মূলত তেতো স্বাদের হলেও মধুর প্রলেপ দেয়া জিনসেংও বিক্রি হয়ে থাকে।

জিনসেং-এর উচ্চমূল্যের কারণ এর চাষাবাদ খুব কঠিন, তাছাড়া উৎপাদনকালও অনেক দীর্ঘ (প্রায় ছয় বছর)। তবে অবশ্যই বিশ্বের অন্য যে কোন দেশের তুলনায় কোরিয়াতে অনেক সস্তায় পাবেন, জিনসেং আর কোরিয়া একে অপরের সমার্থকই বলা যায়। এটি একেবারে আদর্শ স্যুভনির হতে পারে, তাছাড়া রেড জিনসেং প্যাকেট করা হয় বেশ আকর্ষণীয়ভাবে।

সিউলে যারা কিছু সময়ের জন্যেও ছিলেন তারা জানেন জিনসেং পন্য এখানে কতটা সুলভ, বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এলাকা বলে বিবেচিত ইথেওঅন (সিউল সাবওয়ের ৬নং লাইন) এবং ইনসাদুং (সিউল সাবওয়ের ৩নং লাইন)-এ। দেখেশুনে কেনার জন্য গ্যায়নদুং হার্বাল মেডিসিন মার্কেট দিয়ে শুরু করতে পারেন। শুধু জিনসেং পণ্য দিয়েই সাজানো তিন শতাধিক স্টল আর দোকান থেকে আপনার চাহিদামতো পণ্যটি কিনতে পারবেন খুব সহজেই। যেহেতু কারখানা থেকে পন্য সরাসরি এখানে আসে তাই অন্যান্য জায়গার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের তুলনায় এখানে দামও অনেক কম পড়বে। টাটকা জিনসেং, জিনসেং নির্যাস এবং জিনসেং চা এই মার্কেটের সর্বাধিক বিক্রিত পণ্য।

জিনসেং কেনাকাটার জন্য নামদেমুন মার্কেটও আদর্শ হতে পারে। পর্যটকদের কাছে এটি খুব পরিচিত, এখানকার দোকানদাররা ইংরেজি জানায় কথোপকথনটাও অনেক সহজ হয়। অনেক দোকানেই বিদেশীদের কেনাকাটার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে পছন্দের পণ্যটি এখান থেকে পেতে পারেন খুব বেশি ঘোরাঘুরি না করেই। তাছাড়া জিনসেং কেনার সময় যার জন্য নিচ্ছেন তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়, শরীর খুব গরম হয় এমন ব্যক্তিদের জন্য জিনসেং খাওয়া নিষেধ করা হয়। এসব ব্যাপারেও এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারেন। নামদেমুন মার্কেটে যাওয়া যাবে হ্যাহোয়া স্টেশন (সিউল সাবওয়ের ৪নং লাইন) থেকে।

নামদেমুন মার্কেটে নামদেমুন মুভি থিয়েটারের দ্বিতীয় তলায় জিনসেং বিতরন কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ১৬টি দোকানে সুলভ মূল্যে উন্নতমানের পন্য বিক্রি হয়। যদিও দামটা মূলত পন্যের উপর নির্ভর করে, তারপরও সরাসরি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে আসায় এসব দোকানে তুলনামূলকভাবে দাম অনেক কমই পড়ে। যত অখ্যাত জিনসেং পণ্যই হোক এখানে আপনি পাবেন। নামদেমুন মার্কেটে যাওয়ার জন্য হ্যাহোয়া স্টেশনের ৪ নম্বর লাইনে চলে যান এবং নামদেমুন সড়কের (নামদেমুন-রো) মূল প্যাসেজটি ধরে সোজা হাঁটতে থাকুন, হাতের ডানে একেবারে রাস্তার পাশেই পেয়ে যাবেন।

কোরিয়ানদের প্রতিদিনের খাদ্য হওয়ায় চাহিদা মেটাতে প্রায় সব সুপারমার্কেট আর ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেই জিনসেং থাকে। দক্ষিণ সিউলের COEX মলের দোকানগুলোতে নির্বাচিত কিছু ভালো মানের জিনসেং পণ্য পাবেন, তবে এসব অভিজাত এলাকায় দামটাও একটু বেশিই গুনতে হবে। COEX মলে যাওয়া যাবে স্যামসাং স্টেশন (সিউল সাবওয়ের ২নং লাইন) থেকে।

তথ্যঃ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারী ওয়েবসাইট এবং ইন্টারনেট।

sentbe-top