cosmetics-ad

চীনে উইঘুরদের রোজা পালনে বাধা

china-uighur

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়কে রোজা না রাখতে শপথ পাঠ করিয়েছে স্থানীয় সরকারের কিছু কর্মকর্তা। চীনে আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস।
জিনজিয়াংয়ে এই সময়টি খুবই স্পর্শকাতর, কারণ গত তিন বছর ধরে বেইজিংসহ চীনের বিভিন্ন স্থানে হামলার জন্য উইঘুর সম্প্রদায়কে দায়ী করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জিনজিয়াংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং সরকারি ওয়েবসাইটে দলীয় সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী, ছাত্র এবং শিক্ষকদের রোজা পালন না করার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। গত বছরও কিছু এলাকায় এ রকম ঘটনা ঘটেছিল।

গত সপ্তাহে কাজাখ সীমান্তের জিংগি কাউন্টিতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রমজান মাসেও হালাল রেস্তোরাঁগুলো স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। এই আদেশ সঠিকভাবে পালন করা হয় কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য কিছু খাদ্য কর্মকর্তা পরিদর্শনে যাবেন, অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের আরো কিছু বিভাগ। মেরালবেশি কাউন্টিতে কর্মকর্তারা বলেছেন, লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, ‘লোকদের যেকোনো ধর্মের প্রতি বিশ্বাস নেই এটা নিশ্চিত করার জন্য তারা কোনো ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না এবং রোজাও পালন করতে পারবে না।’ এই ঘোষণাটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে এ কাউন্টিতে এক সংঘর্ষে ২১ জন নিহত হয়েছিল।

উইঘুর সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো জিনজিয়াংয়ে সরকারের এমন আদেশকে দমনমূলক নীতি বলে অবহিত করেছে। এবং বেইজিং কর্তৃক ধর্ম পালনের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপকে অঞ্চলটিতে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছে।

উইঘুর সম্প্রদায়ের মুখপাত্র দিলশাদ রশিদ বলেন, ‘রমজানে রোজা পালনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত বিষয়টিকে চীন রাজনীতিকীকরণ করে ফেলেছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।’ টেলিফোনে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে জিনজিয়াং প্রদেশের গভর্নর এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চীন সরকার সবসময়ই রোজা পালনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে তারা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের রোজা পালন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।