cosmetics-ad

ভ্যাটমুক্ত মাজার ব্যবসা বনাম ভ্যাটযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা!

majar-vs-education

মাজার একটি আরবী শব্দ, যা এখন শুধু বাংলাতেই ব্যবহৃত হয়। শব্দটি ফারসী দরগাহ শব্দের প্রতিশব্দ। এর ধাতুগত অর্থ ‘যিয়ারতের স্থান’। মাজার বলতে সাধারণত আওলিয়া-দরবেশগণের সমাধিস্থলকে বোঝায়। মাজারের প্রতি মুসলমানদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় সুফী তরীকাগুলির প্রভাবের ফলে। সুফীতত্ত্বের অনুসারী মুসলমানরা সুফী দরবেশদের কবরস্থান যিয়ারত করতে পছন্দ করেন। অনেক মাজারে সমাধিস্থ ব্যক্তির উরস অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। একে ঈসালে ছওয়াবের মাহফিল বলে। ঐতিহাসিক মাজারগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি থাকে এবং খাদিমও থাকেন; অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা উত্তরাধিকারসূত্রে এ পদে অধিষ্ঠিত হন।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে আগত ইসলাম প্রচারক আওলিয়া-দরবেশদের মাজারগুলি এখনও বিদ্যমান, যথা: আজমীরে খাজা মঈনউদ্দীন চিশতির মাজার, দিল্লিতে নিযামউদ্দীন আওলিয়ার মাজার, লাহোরে ফরিদউদ্দীন গঞ্জ-এ-শাক্কারের মাজার, সিলেটে হযরত শাহ জালালের মাজার, রাজশাহীর শাহ মখদুম মাজার, ঢাকায় শাহ আলী বাগদাদীর মাজার, খুলনায় খানজাহান আলীর মাজার ইত্যাদি। চট্টগ্রাম মাজারের শহর হিসেবে খ্যাত, কারণ সেখানে বারো-আওলিয়ার মাজার আছে (https://goo.gl/13CAEy)।

জাবির (রাঃ) হতে বর্নিত; তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ (সঃ) কবর চুনকাম অর্থাৎ-পাকা করতে কবরের উপর বসতে এবং কবরের উপর গুম্বুজ তৈরী করতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম ১ম খন্ড ৩১২ পৃঃ, আবূ দাউদ ২য় খন্ড ৪৬০পৃঃ) ।

মূর্তি পূজকরা সাধারনত ৪ টি কাজ করে থাকে

[১] বাৎসরীক ২ টি বড় অনূষ্ঠান দূর্গাপূজা ও কালীপূজা এছাড়া আরও ছোট ছোট অনূষ্ঠান
[২] প্রতিমাদের সামনে প্রদীপ মূমবাতী আগরবাতী ইত্যাদী প্রজ্যলীত করে
[৩] এদের নামে পশূ / পাঁঠা কোরবনী [বলী] দিয়ে থাকে
[৪] প্রতিমাদের সামনে মাথা নত ও সেজদা করে থাকে

মাজার পন্থীদের ও ৪ টি কাজ

[১] বাৎসরীক ওরস ও মিলাদ মাহফিলসহ আরও কত কি
[২] কবরের সামনে মুমবতি আগরবাতি প্রজ্যলন করন
[৩] পীরের / মাজারের নামে পশু কোরবানী /মান্নত করন
[৪] কবর ওয়ালার কাছে কিছু চাওয়া ,মনোবাসনা পূন্যের জন্য কবর কেন্দ্রিক দোয়া করা ,ক্ষেএ বিশেষ কবর কে সেজদা করা ইত্যাদি

সিজদাহ একমাত্র আল্লাহর প্রাপ্য। পীর নামক ভন্ডগুলো আল্লাহর এই অধিকারেও হাত দিয়েছে। তাদের মতে যারা পীরকে সিজদাহ করে না তারা শয়তানের মতো জাহান্নামী। মূলত যারা পীরকে সিজদাহ করে তারা আল্লাহর ইবাদাত কে খন্ড খন্ড করে আল্লাহর পাশাপাশি মানুষের ইবাদাত এ লিপ্ত যা শিরকে আকবর।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ওরসের নামে মাজারগুলো প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে বিপথগামী মুসলমানদের কাছ থেকে। দেশে কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া এত লাভজনক ব্যাবসা হয়ত দ্বিতীয়টি আর নেই। কিন্তু সব সরকারই সেদিকে বেখেয়াল , তাদের উচ্ছেদ তো দূরের কথা তাদের উপর মোটা অংকের ভ্যাট বসাতেও অনিহা !! কিন্তু কেন ??

মাজার ব্যাবসায়ীদেরকে অবাধে অবৈধ ব্যবসার সুযোগ করে দিয়ে সরকার তাদের দেউলিয়াত্ত ঘুচাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর ৭.৫% অতিরিক্ত কর আরোপ করে দিয়েছে। তাহলে কি অবৈধ ব্যবসাই চলবে আর ছাত্ররা অতিরিক্ত কর গুনে যাবে ??

ডা: মো: এনামুল হক মনি (পিএইচডি গবেষক, কোরিয়া)