cosmetics-ad

বিদেশের মাটিতে বাঙালিপনা

michigan-election

কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। অথচ অনেকেই মনে করেন বাঙালিরা কেবল অন্যদের অনুকরণ করে। বিশেষ করে বিদেশে গেলে শেকড়ের বন্ধন মনে রাখে না। সবসময় বিদেশি খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে ভুলে যায় বাঙালি সংস্কৃতি।

কিন্তু বাঙালিরা যে কোনোখানে গিয়েই নিজের শেকড়কে ভুলে যায় না, তার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। মঙ্গলবার মিশিগানের মেয়র নির্বাচনে আরও একবার সেটাই প্রমাণ হল।

ইতোমধ্যেই বাঙালিরা বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশীয় কায়দায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সবার মন জয় করে এসেছে। দেশি কায়দায় বিদেশের মাটিতে থেকেও পূজার্চনা করে থাকে বাঙালিরাই। বিদেশের মাটিতে শহীদ মিনার স্থাপন করেছে আমাদের দেশের বাঙালি।

আর ভোজনবিলাসী বাঙালির নাম তো কারও অজানা নয়। সেটা দেশ কিংবা বিদেশ সবখানেই। দেশে অনেকেই হয়তো মনে করেন, যারা বিদেশে থাকে তারা কেবল বিদেশি খাবার খায়। সেটাও একেবারে বিদেশি কায়দায়।

কিন্তু বাঙালিদের যে বাঙালি খাবার ছাড়া অন্য কিছুতেই মন ভরে না, সেটা ভিনদেশিদেরও জানা আছে। শখের বসে মাঝে মাঝে ভিনদেশি খাবার চেখে দেখলেও প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে বাঙালি খাবার না হলে ভোজনরসিক বাঙালিদের চলেই না।

মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলা টাউনে (হ্যামট্রামিক) প্রাইমারি ইলেকশন ও সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে মেয়র পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

এতো বড় খুশিতে বাঙালি খাবারের বাইরে কি দিয়ে উদযাপন করা যায়? কামরুলের সমর্থকরা ঠিক তাই করলেন। বাটাতে করে পান, চুন নিয়ে হাজির হলেন মিশিগানের রাস্তায়। সুপারি, জর্দ্দা, খয়ের দিয়ে পান সাজিয়ে খাওয়ালেন ভোটারদের।

বিদেশের মাটিতে চুন-সুপারি দিয়ে পান খাওয়ানোতে ক্ষণিকের জন্য হলেও বাঙালিপনা ফুটে উঠেছে। বাঙালিরা যে বিশ্বের কোনো প্রান্তে গিয়েই শেকড়কে ভুলে যায় না, এর চেয়ে বড় নজির আর কী-ইবা হতে পারে।

কেবল পান নয় চা-বিস্কিটের সংস্কৃতিও দেখা গেছে এ নির্বাচনে।