sentbe-top

এপিজে আবদুল কালামের কিছু অজানা তথ্য

azadআবুল পাকির জয়নুল-আবেদিন আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির (অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের) রামেশ্বরমের এক তামিল মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আজ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের ৮৬তম জন্মজয়ন্তী। তার পিতা জয়নুল-আবেদিন ছিলেন একজন নৌকামালিক এবং মাতা অশিয়াম্মা ছিলেন গৃহবধূ।

তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন বিজ্ঞানী হিসেবে। পরে তিনি ঘটনাচক্রে রাজনীতিবিদে পরিণত হন। তিনি পদার্থবিদ্যা বিষয়ে সেন্ট জোসেফ’স কলেজ থেকে এবং বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা (এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিষয় নিয়ে মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এম আই টি) থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। এরপর ৪০ বছর তিনি প্রধানত রক্ষা অনুসন্ধান ও বিকাশ সংগঠন (ডিআরডিও) ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ইসরো) বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন।

ভারতের অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিলেন।ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়। ১৯৯৮ সালে পোখরান-দুই পরমাণু বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান সাংগঠনিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। এটি ছিল ১৯৭৪ সালে স্মাইলিং বুদ্ধ নামে পরিচিত প্রথম পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষা।

২০০২ সালে কালাম তৎকালীন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর এই পদে আসীন থাকার পর তিনি শিক্ষাবিদ, লেখক ও জনসেবকের সাধারণ জীবন বেছে নেন। ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন কালাম।

২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় ভারতীয় প্রমাণ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ নাগাদ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ভারতীয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।

জেনে নেওয়া যাক এপিজে আবদুল কালামের বিষয়ে বেশ কিছু জানা-অজানা তথ্য-

১) ২০০২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার কেরল যান তিনি । সেসময় কেরলে রাষ্ট্রপতির অতিথি হিসেবে দুজনকেই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। একজন মুচি এবং অন্যজন এক ধাবার মালিক। তিরুঅনন্তপুরমে থাকার সময় এই দুজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কালামের।

২) রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন তার আয় এবং সম্পত্তি একটি ট্রাস্টের নামে করে দিয়েছিলেন ড. কালাম। তিনি এর কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, তিনি যেহেতু রাষ্ট্রপতি হয়ে গিয়েছেন তাই সরকার তার প্রতি পরবর্তীকালেও যত্নবান থাকবে, তাই জমানো সম্পত্তি বা বেতনের প্রয়োজন তার নেই।

৩) ২০১৩ সালের কথা আইআইটি বারাণসীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। মঞ্চে তিনি চেয়ারে বসবেন না বলে জানিয়ে দেন, কারণ তার চেয়ারটি অন্যান্য চেয়ারগুলির থেকে বড় ছিল। পরে উদ্যোক্তারা সেই চেয়ার সরিয়ে দিলে তিনি অন্যান্যদের মতো একই চেয়ারে বসেন।

৪) ২০০২ সালে দেশের রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন কালাম, এমনটা প্রায় নিশ্চিত সেসময় এক স্কুলের ছাত্রীরা তাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে তিনি কোনওরকম নিরাপত্তা ছাড়াই সেই স্কুলে উপস্থিত হন। ৪০০জন ছাত্রীর সামনে তিনি ভাষণ দিতে উঠলে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবং তা ঠিক হওয়ার আগেই দেখা যায়, কালাম ছাত্রীদের মাঝেই চলে গিয়েছেন, এবং বিনা মাইকেই ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করেন।

৫) ড. কালাম যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন সে সময় নমন নারায়ণ নামের এক শিল্পী তার স্কেচ করে তাকে পাঠিয়েছিলেন । নমনের কাছে রাষ্ট্রপতির নিজে হাতে তৈরি ধন্যবাদ কার্ড এবং সেইসঙ্গে বার্তাও পৌঁছে যায় । যা তাকে হতবাক করে দেয়।

৬) শৈশবে আর্থিক অনটনের সময় নিজের পরিবারকে সাহায্যের জন্য, স্কুলের পরে খবরের কাগজ বিক্রি করতেন তিনি।

৭) ব্যালিস্টিক মিসাইলের উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে তিনি ভারতের ‘মিসাইল ম্যান’ বলে পরিচিত ছিলেন ।

৮) বিশ্বের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছিলেন ।

৯) কালামের পছন্দের বিষয় ছিল অঙ্ক এবং ফিজিক্স। তবে পরবর্তী সময়ে এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি ।

১০) তার আত্মজীবনী উইংস অব ফায়ার: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি প্রথমে ইংরাজিতে প্রকাশিত হয়। পরে তার অনুবাদ হয় ১৩টি ভাষায়, যার মধ্যে ফরাসি এবং চীনা ভাষাও ছিল।

sentbe-top