বাড়তি শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে জার্মানি কতটা প্রস্তুত?

একদিকে বাড়ছে অভিবাসীদের সংখ্যা, অন্যদিকে বাড়ছে শিশু জন্মের হার৷ ফলে জার্মানিতে বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও৷ নতুন এক গবেষণা বলছে, এই বাড়তি চাপ মোকাবেলায় মোটেও প্রস্তুত নয় জার্মানি৷

অদূর ভবিষ্যতে জার্মানির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে, এমন তথ্য ভুলে যান৷ জার্মানির ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে সত্যিকার পরিস্থিতি ঠিক তার উলটো৷

অবসরে যাওয়ার হার রেকর্ড ছাড়িয়েছে, নতুন শিক্ষকও প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে কম৷ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না ক্লাসরুমের সংখ্যা৷ ‘‘সংসদ সদস্যদের দ্রুতই স্কুল এবং শিক্ষা বিষয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করা উচিত”, বলছেন ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার ডির্ক জর্ন৷

‘জনসংখ্যায় নাটকীয় পরিবর্তন’

জার্মানি ছেড়ে যে পরিমাণ মানুষ অন্য দেশে যাচ্ছে, তার চেয়ে জার্মানিতে বসবাসের জন্য আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন ডির্ক জর্ন৷

২০১৩ সালে জার্মান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যে পরিমাণ শিক্ষার্থীর কথা ভাবছিল, গবেষণা বলছে, ২০২৫ সালে তার চেয়ে ১০ লাখ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হবে জার্মান স্কুলগুলোতে৷

জার্মান ভাষা শিখছেন অভিবাসী শিক্ষার্থীরা

‘‘কয়েক দশক ধরে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সর্বনিম্ন তালিকায় ছিল জার্মানি৷ তবে গত পাঁচ বছরে বদলেছে পরিস্থিতি৷ এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে অভিবাসীর জার্মানিতে আগমনে আগামী আট বছরে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে”, জানান জর্ন৷

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে জার্মানিতে প্রায় ৭৯ লাখ শিক্ষার্থী ছিল৷ ব্যার্টেলসমান ফাউন্ডেশনের গবেষণা বলছে, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৮৩ লাখে৷

অপ্রস্তুত জার্মানি!

সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছিল স্কুলগুলোকে৷ গবেষণা বলছে, এর ফলে স্কুলগুলোও রয়েছে অপ্রস্তুত অবস্থায়৷ বিভিন্ন শহর কর্তৃপক্ষের চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও স্কুলগুলোতে শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট তীব্র৷ বাড়তি চাপ মোকাবেলায় স্টেটগুলোর বার্ষিক আনুমানিক ৪.৭ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে গবেষণায়৷

‘‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে, সে দিন আর নেই”, বলছেন জর্ন৷ তবে এ হার এলাকাভেদে ভিন্ন হবে বলে মনে করছে, তিনি৷ ছোট শহরের তুলনায় বড় শহরগুলোতে এ হার বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়েছে গবেষণায়৷

প্রাথমিক স্কুলে ২০১৫ সালে ছিল ২৮ লাখ শিক্ষার্থী৷ ২০৩০ সালে এ সংখ্যা ৩২ লাখে পৌঁছাবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে আট বছরের মধ্যে ২৪ হাজার শিক্ষক যাবেন অবসরে৷ তরুণ শিক্ষকদের অভাবে এর ধাক্কা গিয়ে লাগবে ওপরের ক্লাসগুলোতেও৷

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি জার্মানির জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন বার্লিন-ভিত্তিক ভিবিই শিক্ষক সংস্থার চেয়ারম্যান উডো বেখমান৷ জার্মান রাজনীতিবিদরা শিক্ষকসংকটকে অনেকদিন ধরে আড়াল করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷ ‘‘এখন এটা প্রমাণিত হলো যে, মন্ত্রণালয় ভুল পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করছে”, বলছেন বেখমান৷

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে জার্মানির জন্য খুশির সংবাদ বললেও, ছ’বছর পরে যেসব চ্যালেঞ্জ নিতে হবে জার্মানিকে, তার জন্য প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান বেখমানের৷ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার শিক্ষার্থী এবং অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন তিনি৷