দিনদিন বাড়ছে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভোগান্তি

Bangladeshi-Passportবাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের প্রায়শই একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমনকি এশিয়ার অনেক জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্থান পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও একই সমস্যার সম্মুখিন হন বাংলাদেশিরা। ঢাকার একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুব জানান, ইন্দোনেশিয়ার বালি এয়ারপোর্টে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় তাকে। চোখের সামনে দিয়ে অন্য সবাই ইমিগ্রেশন পেরিয়ে চলে গেলেও বাংলাদেশি বলেই তাকে বসিয়ে রাখা হয়। এমনকি ওয়াশরুম ব্যবহার করা থেকেও বিরত রাখা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশিদের ভিসা সংকট ও ভোগান্তি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বাংলাদেশকে বরাবরই সম্মানের চোখে দেখতো যেসব রাষ্ট্র তারাও এখন প্রায়শই অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্যারান্টার চাইছে। এরমধ্যে ভুটান অন্যতম উদাহরণ।  এমনকি শ্রীলঙ্কার মতো দেশ কিছু দিন আগে বন্ধই করে দিয়েছিল বাংলাদেশিদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা। পরে বাংলাদেশও বন্ধ করে দিলে চাপের মুখে শ্রীলঙ্কা আগের অবস্থান থেকে সরে আসে। এছাড়াও বিশ্বের উন্নত দেশগুলো দিন দিন বাংলাদেশিদের ভিসা কঠোর করছে। ৭০ থেকে ৮০ ভাগ পর্যন্ত ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করছে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো। ব্রিটেন ও কানাডার মতো দেশগুলোর ভিসা সেন্টারই নেই বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও ঢাকা ও সিলেটের ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার বন্ধ করে নয়াদিল্লি নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা হাতে পেতে পেতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো সহজলভ্য ভিসার দেশগুলোতেও এখন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। জটিলতায় পড়তে হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিসার ক্ষেত্রেও। আগে চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচির প্রমাণপত্র দিলে সহজে ভিসা দেওয়া হতো। এখন চিকিৎসার জন্য ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হারও আগের তুলনায় হয়েছে দ্বিগুণ। মালয়েশিয়ায় সিঙ্গেল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা এয়ারলাইন্সের রিটার্ন টিকিট এবং কোথায় কত দিন থাকবে তার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হলেও মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কামরুন্নাহার রুমা