sentbe-top

পদ ধরে রাখতে নামই বদলে ফেললেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি

mostakপদ ধরে রাখতে নিজের নামই বদলে ফেললেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চৌধুরী মোশতাক আহমেদ। এফিডেভিট বা হলফনামার মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে চৌধুরী মোশতাক আহমেদ থেকে হয়ে গেছেন চৌধুরী রাসেল আহমেদ। নতুন নামেই তিনি ব্যাংকটির বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের নামের সঙ্গে মিল থাকায় ভারপ্রাপ্ত এমডির নাম পরিবর্তন করতে বলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার। চেয়ারম্যানের প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার পরীক্ষা দিতেই নামে এ পরিবর্তন এনেছেন ভারপ্রাপ্ত এমডি।

নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চৌধুরী মোশতাক আহমেদের সঙ্গে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্যাংকটির মুখপাত্র ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এ এস এম বুলবুল বলেন, যে কেউ এফিডেভিট করে নিজের নাম পরিবর্তন করতে পারেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত এমডি মহোদয়ও নিজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে কিনা জানি না।

এ বয়সে ভারপ্রাপ্ত এমডি কেন নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন?— এমন প্রশ্নে তিনি এমডির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। পরে আর এ বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। তবে ভারপ্রাপ্ত এমডি চৌধুরী মোশতাক আহমেদ শিগগিরই ভারমুক্ত হয়ে যাবেন বলে জানান এ এস এম বুলবুল।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে এএফএম শরিফুল ইসলাম পদত্যাগ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি পদ শূন্য রয়েছে। তখন থেকেই ন্যাশনাল ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংকটিরই অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোশতাক আহমেদ। তাকে পূর্ণাঙ্গ এমডি করার জন্য অনেক আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানিয়েছে ব্যাংকটি। কিন্তু চৌধুরী মোশতাককে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এ কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়াটি এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে আছে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, চৌধুরী মোশতাক আহমেদকে ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি নিয়োগের বিষয়টি আপাতত স্থগিত আছে। ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়ে এরই মধ্যে ব্যাংকটি এক বছর পার করে দিয়েছে।

চৌধুরী মোশতাক আহমেদের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঘটনাটি যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা হবে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিরল ঘটনা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে কিনা, তাও আমাদের জানা নেই।

১৯৮৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে চৌধুরী মোশতাকের কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে আল-আরাফাহ্, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল সিকিউরিটিজে চাকরি করেন। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত চৌধুরী মোশতাক আহমেদ ফারমার্স ব্যাংকের প্রথম এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ২০১৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের এএমডি হিসেবে যোগ দেন।

sentbe-top