মেহেরপুরে দুরারোগ্য রোগ সারাতে পানপড়া, মানুষের ভিড়!

meherpurমেহেরপুরের সাহারবাটি গ্রামের দিনমজুর মজিদুল ইসলামের বাড়িতে নারী-পুরুষের ব্যাপক ভিড়। সবার হাতে এক গুছি করে পান। সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো মানুষের হাতে থাকা পানপাতায় একে একে ফুঁক দিচ্ছেন মজিদুল। এই পানপড়া খেলে নাকি ডায়াবেটিসসহ নানা দুরারোগ্য রোগ ভাল হয়।

স্বপ্নে পাওয়া দাওয়া দেয়া হচ্ছে বলে মজিদুল দাবি করলেও রোগ মুক্তি হয়েছে এমন কারো সন্ধান মেলেনি। তারপরেও প্রতিদিনই দুর দুরান্ত থেকে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নানা বয়সী মানুষ। মজিদুলের দাবি, গত রমজান মাসে তিনি স্বপ্নে শিখেছেন মন্ত্র। এক নারী তাকে মন্ত্র পড়ে পানে ফুঁক দিতে বলেছেন যাতে ডায়াবেটিস ও দুরারোগ্য রোগ সেরে যাবে।

এমন প্রচারণার পর থেকেই মজিদুলের বাড়িতে ভিড় পড়েছে। এর বিনিময়ে মজিদুল কোন টাকা না নিলেও একটি চক্র এটি নিয়ে ব্যবসা করার পায়তারা করছে বলে জানা গেছে। তবে মজিদুলের দাবি, কেউ কিছু দিলে রান্না করে খাইয়ে দেয়া হয়। কোন টাকা নেয়া হয় না।

মজিদুল জানান, স্বপ্নে দেখার পর তার নিকটাত্মীয় শরিফুল ইসলামকে ২১টি পানপাতা পড়ে ফুঁক দেন। এতেই নাকি তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন।

শরীফুল নামে এক রুগী জানান, তিনি তিন বছর যাবৎ ডায়বেটিকম রোগে ভুগছিলেন। রোগ মুক্তির দাবি করলেও তার স্বপক্ষে কোন মেডিকেল পরীক্ষা দেখাতে পারেননি তিনি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (হারবাল) ডাঃ শাহীন আলম বলেন, গাছ-গাছড়াতে অনেক কাজ হয় ঠিকই কিন্তু পান পাতাতে ডায়াবেটিস নিরাময় হতে পারে এমন কোন কথা আমি কখনো শুনিনি বা পড়িনি। তবে কোন কিছুর উপর বিশ্বাসে মানসিক প্রশান্তি হলে সাময়িক রোগ কম হতে পারে। এতে রোগ নিরাময় হবে এর কোন কারণ নেই। ওই পানপড়া খেয়ে মানসিক ভাবে অনেকেই সুস্থতা বোধ করতে পারেন কিন্তু রোগ নিরাময় হবে না। এর থেকে দুরে থাকার আহবান জানান এই চিকিৎসক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মজিদুল লেখাপাড়া করেননি। ইসলামী শিক্ষা কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষাও তার মাঝে নেই।

গাংনী দারুচ্ছাল্লাম জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাও. রুহুল আমিন বলেন, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ি কোন কিছু পড়ে খাওয়ানোটা ঠিক নয়। তাছাড়া যিনি নামাজ কালাম করেন না তিনি কখনও ভাল স্বপ্ন দেখতে পারেন না। মজিদুল স্বপ্নে যেটা দেখেছেন বলে দাবী করছেন এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দৌলতপুরের আসুরা খাতুন বলেন, কয়েক বছর ধরে আমি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। রোগ মুক্তির আশায় পানপড়া নিয়েছে। কারো রোগ ভাল হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুনেছি তবে রোগ মুক্ত কারো সাথে সাক্ষাত হয়নি।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে দেখি যদি প্রতারণামূলক হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।