বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৮ অক্টোবর ২০২৫, ১:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

শহিদুল আলমদের বহনকারী জাহাজ আটক, নিশ্চিত করলো ইসরায়েল


Consience Cover

গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) বেশ কয়েকটি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা। সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরের ওপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক জাহাজ আটক করে।

এফএফসি জানায়, ৯৩ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মী বহনকারী নৌযান ‘দ্য কনশানস’-এর ওপর প্রথমে হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এরপর তিনটি ছোট নৌযানেও হামলা ও আটক করা হয়। যাত্রীদের “অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে” বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ফ্লোটিলায় অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নৌ অবরোধ ভাঙা ও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। নৌযান ও যাত্রীদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং দ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটক মালয়েশিয়ান মানবাধিকারকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রো-প্যালেস্টাইন সংগঠনগুলোর জোট এফএফসি জানিয়েছে, তাদের নৌযানগুলোতে ছিল গাজার হাসপাতালগুলোর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ, শ্বাসযন্ত্র ও পুষ্টিসামগ্রীসহ জরুরি সহায়তা। এফএফসি ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। আমাদের নৌবহর কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি।’

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ইসরায়েল প্রায় ৪০টি নৌযান আটক করে, যাতে ৪৫০ জনেরও বেশি কর্মী ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গও। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের সেই নৌবহরও গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল।

সেসময় আটক মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি হেফাজতে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ফরাসি-প্যালেস্টাইনি বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান জানিয়েছেন, ফ্লোটিলা আটক হওয়ার পর ইসরায়েলি পুলিশ তাকে মারধোর করে। অপরদিকে মার্কিন কর্মী ডেভিড অ্যাডলার বলেন, তাকে ‘হাতকড়া ও চোখ বেঁধে উলঙ্গ করা হয়’ এবং পরে জোরপূর্বক ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতমার বেন-গভিরের সঙ্গে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়।