
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আমাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে আনাসসহ ছয়জন নিহত হওয়ার মামলায় সাক্ষ্যে দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য দিয়েছেন।
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর দশম দিনে আজ উপদেষ্টার আংশিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বাকি জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ১৬ অক্টোবর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার পলাতক হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “একপর্যায়ে সমন্বয়করা রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আটক থাকাকালীন কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি দেখান। ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ ও রমনা জোনের ডিসি হুমায়ুন কবীরের পক্ষ থেকে সমন্বয়কদের বারবার বলা হয়েছিল, রাজি না হলে হত্যার নির্দেশ রয়েছে।”
জবানবন্দিতে তিনি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত ঘটনার ক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত বছর ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, ডিএমপি কমিশনারসহ যেসব কর্মকর্তা গুলির কমান্ডিং অথরিটিতে ছিলেন তাদের বিচার দাবি করেছেন।
আসিফ জানান, ১৯ জুলাই দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং রাতেই সাদা পোশাকধারী কিছু লোক তাকে মাথায় কালো টুপি পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কথিত সেনানিবাসের আয়নাঘরে রাখা হয়, যেখানে আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও বার্তা দিতে চাপ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ৩২ ঘণ্টা অনশনের পর সমন্বয়কদের ডিবি অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে আমার সামনেই দুজন নিহত হন। পরে জানতে পারি সেখানে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ চাইনিজ রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করেছে।”
মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।





































