রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

তারেক রহমান ফিরছেন আজ, স্বাগত জানাতে ঢাকায় মানুষের ঢল


Tareq-Rahman

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে লাখো মানুষ ঢাকায় আসছেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি কুড়িল–পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে বিএনপির আয়োজিত গণ-সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। সেখানে তিনিই একমাত্র বক্তা থাকবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে তারা রাজধানীতে প্রবেশ করেন। তাদের বড় একটি অংশ বুধবার থেকেই রাজধানীর কুড়িল–পূর্বাচল ৩০০ ফুট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। জাতীয় ও দলীয় পতাকা, স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে সমাবেশস্থল আগের দিন থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

নেতাকর্মীরা জানান, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতেই তারা ঢাকায় এসেছেন। বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা—কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর ও বগুড়াসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা মঞ্চ এলাকা পরিদর্শন ও অবস্থান নিতে শুরু করেন। আরও নেতাকর্মী সকালে ঢাকায় আসবেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে মঞ্চ নির্মাণ শেষ হয়েছে। ব্যানার, পতাকা ও তোরণে সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা। বুধবার বিকেল থেকেই সংবর্ধনাস্থল ও আশপাশের সড়কে লাখো নেতাকর্মীর ভিড় জমতে শুরু করে। অনেক নেতাকর্মী সমাবেশের আগের রাত থেকেই মাঠে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছেন। সন্ধ্যার পর ভিড় আরও বাড়লে আশপাশের সড়কে যানজট সামলাতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে দেখা যায়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ডিএমপি বেশ কয়েকটি সড়ক পরিহার করে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে এবং ড্রোন ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জনদুর্ভোগের জন্য রাজধানীবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছে বিএনপি।

নেতাকর্মীরা একে বড় রাজনৈতিক ও আনন্দঘন সমাবেশ হিসেবে দেখছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে সাতটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মহাখালী ও ফুলবাড়িয়ায় পৃথক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে

বিএনপি নেতারা বলছেন, দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করবে। এ উপলক্ষে আজকের এই গণসংবর্ধনাকে তারা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে দেখছেন।