
ছবি: ইন্ডিয়া টুডে
ভারতের সামরিক শক্তিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস আরিঘাট’ থেকে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কে-৪’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক আক্রমণ ক্ষমতাকে আগের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে।
গত ২৯ আগস্ট ভারতীয় নৌবাহিনীতে কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারত বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখালো, যাদের স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—এই তিন ক্ষেত্র থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা বা ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ রয়েছে। ভারতের এই কৌশলগত অস্ত্রটি মূলত অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে সমুদ্রের গভীর থেকে উৎক্ষেপণের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।
আড়াই টন ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের ‘অরিহন্ত’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো থেকে নিক্ষেপ করা যাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার সবচেয়ে গোপনীয় ও শক্তিশালী অংশ। কারণ অরিহন্ত শ্রেণির সাবমেরিনগুলো সমুদ্রের অতল গহ্বরে দীর্ঘ সময় নিঃশব্দে অবস্থান করে টহল দিতে পারে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের ‘কে’ অক্ষরটি ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের সম্মানে রাখা হয়েছে, যিনি ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচিতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন। এই সফল পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।



































