রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার

মিয়ানমারে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন, ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার দাবি জান্তার


মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। ছবি: এএফপি

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দাবি করেছে, দেশটিতে তাদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে যোগ্য ভোটারদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। জান্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অংশগ্রহণ তাদের ঘোষিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের সমর্থনের ইঙ্গিত।

২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে গত রোববার জান্তা এক মাসব্যাপী ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করে। সেনাশাসকরা এটিকে জনগণের হাতে পুনরায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

তবে মানবাধিকার কর্মী ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা এই নির্বাচনকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভিন্নমত দমনে ব্যাপক দমননীতি চলছে এবং প্রার্থী তালিকায় সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য রয়েছে। এতে করে নির্বাচনটি সেনাবাহিনীর শাসন দীর্ঘায়িত করার কৌশল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের প্রধান সামরিকপন্থি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এই সপ্তাহে নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল জয়ের দাবি করেছে। একই সঙ্গে জান্তা অভিযোগ করেছে, সপ্তাহান্তে বিদ্রোহীরা ভোটকেন্দ্র ও সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন এক রেকর্ডকৃত বার্তায় জানান, প্রথম ধাপে ভোট দেওয়ার যোগ্য ১ কোটি ১৬ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন—যার সংখ্যা ছয় মিলিয়নেরও বেশি। মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, এই নির্বাচন সরকারের নয়, বরং দেশ ও জনগণের বিজয়।

স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারের ইতিহাসের বড় একটি সময় কেটেছে সামরিক শাসনের অধীনে। পরে প্রায় এক দশক দেশটিতে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের নির্বাচনে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সামরিকপন্থি দলগুলোকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করার পর সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

তবে এবারের ভোটে আগের মতো বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সংঘাতে জর্জরিত দেশটি ছেড়ে বহু মানুষ বিদেশে চলে গেছেন। যারা রয়েছেন, তাদের অনেকেই এই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ভোটকে সামরিক শাসনকে নতুনভাবে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক ধরনের ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে।