
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) পদত্যাগের ধারা থামছে না। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দলটির আরও এক কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন অনলাইনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।
এ নিয়ে একদিনে দলটির দুইজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করলেন। এর আগে একই দিন দুপুর পৌনে তিনটার দিকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। ভিডিও বার্তায় তিনি এনসিপির বিরুদ্ধে ‘পুরোনো উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস’ করার অভিযোগ তোলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত আট দিনে এনসিপির মোট আটজন কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের খবর প্রকাশের পর থেকেই এনসিপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। জোটের বিরোধিতা করে দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। ওই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে মুশফিক উস সালেহীন ও খান মুহাম্মদ মুরসালীনও ছিলেন।
এছাড়া গত ২৫ ডিসেম্বর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জামায়াত-এনসিপির প্রায় চূড়ান্ত হওয়া আসন সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানান দলের ছয় নেত্রী। তারা হলেন- জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নুসরাত তাবাসুম, তাজনূভা জাবীন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং নাহিদা সারোয়ার নিভা।
দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপিতে পদত্যাগের ধারার সূচনা হয় তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন। সেদিন তাকে সমর্থন জানিয়ে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। এর দুই দিন পর পদত্যাগ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরদিন পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন, যিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর রাতে এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।









































