সোমবার । মার্চ ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

হাদি হত্যা মামলা: প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় ও ফয়সালের দায় স্বীকার


Osman-Hadi

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পর আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে র‌্যাব নরসিংদী জেলার সদর থানার তরুয়া এলাকায় তরুয়ার বিলের পানি থেকে হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময় মো. ফয়সালকে আটক করা হয়। তিনি মামলার প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদের শ্যালকের বন্ধু বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হাদিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম এবং আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু।

এদের মধ্যে হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম, সাহেদা পারভীন সামিয়া, মারিয়া আক্তার লিমা, ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ও আমিনুল ইসলাম রাজু আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামান নোমানীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে অটোরিকশায় করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।