বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিনোদন ৪ জুন ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

পাঁচ প্রজন্মের স্মৃতি নিয়ে আসিফ আকবরের আবেগঘন পোস্ট


Asif Akber

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর বরাবরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ সরব। নিজের ক্যারিয়ারের খবরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা সুখ-দুঃখের গল্পও তিনি প্রায়ই শেয়ার করেন ভক্তদের সাথে। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবেগঘন আবহে ধরা দিলেন এই পপ-আইকন। নিজের জন্মস্থান কুমিল্লার পৈতৃক বাড়ি ‘আকবর ভিলা’ ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়ে বুধবার রাতে ফেসবুকে এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী পোস্ট দিয়েছেন তিনি। বাড়িটির নির্মাণ ইতিহাস এবং এর সাথে জড়িয়ে থাকা বাবা-মায়ের অক্লান্ত শ্রম ও ত্যাগের গল্প তুলে ধরেছেন ভক্তদের সামনে।

নিজের শৈশব আর পরিবারের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আসিফ আকবর লেখেন, ১৯৬০ সালে আব্বা-আম্মার বিয়ের পরপরই আমার দাদা মরহুম আবদুল হামিদের উদ্যোগে কুমিল্লায় বাসার জায়গা কেনা এবং বিল্ডিং তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আব্বা ছিলেন জাঁদরেল আইনজীবী, পেশার প্রতি ছিলেন সিরিয়াস। অসহায় গরীব ক্লায়েন্টদের পক্ষেই সবসময় কাজ করতে পছন্দ করতেন, পরিবারের সদস্য করে নিতেন তাদের। যে কারণে নিজে কখনোই স্বচ্ছল হয়ে উঠতে পারেননি।

সাত ভাই-বোনকে শিক্ষিত করতে গিয়ে তার বাবার কঠিন অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করে আসিফ আরও জানান, তার মা ছিলেন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের এক শিক্ষিত ও অভিজাত পরিবারের সন্তান। সেখান থেকে এসে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে মানিয়ে নেওয়া এবং বাজেট ঘাটতির সংসারে সব দিক সামলানো সহজ ছিল না। তবে পিওর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে তারা ভাই-বোনেরা শেষ পর্যন্ত সমাজে বাবা-মায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছেন।

আব্বা তিলে তিলে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন এই ডুপ্লেক্স বাড়ি। উনার মেধা, শ্রম, ত্যাগ আর আম্মার সহনশীলতা ও দূরদর্শিতায় আমাদের আজকের অবস্থান। এই বাসায় বেড়ে উঠেছি আমরা, সব ভাই-বোনের বিয়েও হয়েছে এখানে, মরহুম আব্বা-আম্মার অনন্ত যাত্রাও এই বিল্ডিং থেকেই। আমার দাদার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই আকবর ভিলা। এই বিল্ডিংয়েই জমা আছে আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের আরব্য রজনীর গল্প।

৬৬ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এই বাড়িটিকে বিদায় জানানোর অসীম শূন্যতা প্রকাশ পেয়েছে আসিফের লেখার শেষ অংশে। বাড়িটি ভেঙে সেখানে নতুন স্থাপনা গড়ার আভাস দিয়ে তিনি লেখেন, ৬৬ বছর বয়সী এ বাসাটা আজ ক্লান্ত, তাকেও দাফন করতে হবে। এক অসীম শূন্যতা বুকে চেপে ধরে পাঁচ প্রজন্মের এই ইতিহাসকে মিশিয়ে দিতে হবে মাটির সাথে; পরিণতি পাবে নতুন স্থাপনা। একদিন আমাদের সব গল্পও মিলিয়ে যাবে অনন্ত অসীমে, মুখরিত থাকবে না এই প্রাঙ্গন, তবুও চলতে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পথচলা।

আসিফ আকবরের এই আবেগঘন পোস্ট দেখে অনেক ভক্তই মন্তব্য ঘরে বাড়িটি না ভেঙে অক্ষত রাখার আবদার জানিয়েছেন। তবে ভক্তদের সেই ভালোবাসার জবাবে গায়ক জানিয়েছেন, পুরনো বাড়িটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর সে কারণেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবতার নিরিখে এই কঠিন ও দরকারি সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছে তাঁদের পুরো পরিবারকে।