
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সবসময়ই স্পষ্ট এবং খোলামেলা কথা বলতে পছন্দ করেন। নিজের জীবন, ক্যারিয়ার কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো লুকোছাপা না করে অকপটে সত্য প্রকাশে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ মাল্টিমিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবারও নিজের প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে চিরচেনা আন্দাজে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন এই তারকা।
উক্ত অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নতুন কোনো সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে এই মুহূর্তে তাঁর কোনো ভাবনা আছে কি না।
প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন জানান, তিনি সত্যিই বিয়ের কথা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করছিলেন এবং তাঁর মনে হয়েছিল বিয়ে করার মতো একজন যোগ্য মানুষ তিনি খুঁজেও পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি আর পরিণতি পায়নি। নিজের স্বভাবসুলভ হাসিতে বাঁধন বলেন, “সত্যি বলছি, গত বছর বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা থাকলেও আমার পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা আমাকে খুব পছন্দ করেছিল। কিন্তু সে আসলে ভেগে গেছে!”
বর্তমানে বিয়ের জন্য উপযুক্ত ও মনের মতো কাউকে পাচ্ছেন না উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী জানান, তবে প্রেম করার মতো মানুষ তাঁর জীবনে এসেছে এবং সেটি তিনি অকপটে স্বীকারও করেছেন। বাঁধনের ভাষায়, “এখন বিয়ে করার মতো পাত্র আমার আশপাশে পাই নাই। প্রেম করার জন্য দুই-একজনকে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমও করেছি। কিন্তু বিয়ে করার জন্য পাত্র আসলেই গুরুত্বপূর্ণ।”
নিজের অতীত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বাঁধন আরও যোগ করেন, “বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই সেই ভুলটা করা যাবে না।”
অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরেও ঈদকে ঘিরে নিজের শৈশবের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ ছিল তাঁর কাছে পরম আনন্দের। পরিবারের সব সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটানোর দিনগুলো আজও তাঁর মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের গ্রামের বাড়িতে কাটানো ঈদের দিনগুলোর কথা তিনি আজও ভুলতে পারেন না।
তবে সময়ের সাথে সাথে মানুষের অনুভূতি যে বদলে যায় এবং আনন্দের চেয়ে দায়িত্ববোধের জায়গাটি বড় হয়ে ওঠে, তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি অনুভূত হয়। আর রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা, যা এখনও আমার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।” শৈশবের সেই অনাবিল আনন্দ এখন তাঁর জীবনের এক বিশেষ ও মধুর স্মৃতি।











































