শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার

ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশদাতা কে এই বাপ্পি?


Hadi

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে যুবলীগ নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নাম প্রকাশ্যে আসার পর তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। কে এই বাপ্পি—এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

পল্লবী এলাকায় একসময় ‘ঝুট বাপ্পি’ নামে পরিচিত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি বর্তমানে পরিচিত ‘পল্লবীর জমিদার’ হিসেবে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত ও সড়কে অস্থায়ী বাজার বসিয়ে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহর নিয়ে চলাফেরা করা এই প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন।

কর নথি অনুযায়ী, বাপ্পি ঢাকার কর অঞ্চল-৩-এর সার্কেল ৪৯-এর নিবন্ধিত করদাতা। ২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তিনি মিল্ক ভিটা রোডে ৭০০ বর্গফুটের একটি সেমিপাকা টিনশেড বাড়ির মালিক ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। সেই বাড়িটি এখন আর নেই; সেখানে গড়ে উঠেছে তিনতলা ভবন ‘চৌধুরী ভিলা’। হলফনামা দেওয়ার সময় কোনো গাড়ির মালিক না হলেও বর্তমানে তিনি হ্যারিয়ার জিপসহ একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছেন।

ব্যবসার ক্ষেত্রেও বাপ্পির বিস্তার রয়েছে। তিনি ‘স্মার্ট ফ্যাশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। পাশাপাশি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর ‘মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান ব্রিকস’ নামে একটি অটো ব্রিকফিল্ড স্থাপন করেছেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বিপুল সম্পদের তথ্য ২০২৩ সালে একটি অনুসন্ধানে উঠে আসে।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বাপ্পি ২০১২ সালে ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৪ সালে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ২০২১ সালে তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, পরে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাপ্পির নির্দেশেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই হাদিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।