রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা


yunus

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গণভবনে নির্মাণাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তিনি জাদুঘরে পৌঁছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং গত ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রসমূহ ঘুরে দেখেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব ও মেরিনা তাবাসসুম খানসহ সংশ্লিষ্টরা অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও প্রদর্শিত হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা বিশ্বে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন না হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা। জাতি কখনো দিশেহারা হলে এই জাদুঘর পথ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের এখানে এসে সময় কাটানো উচিত। শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে একদিন কাটালে মানুষ উপলব্ধি করবে জাতিকে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ অংশে সময় কাটানোর সুযোগ থাকলে মানুষ বন্দিদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আরও গভীরভাবে বুঝতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জাদুঘরের কাজে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অল্প সময়ে এই পর্যায়ে কাজ পৌঁছানো একটি রেকর্ড। তিনি জানান, আরও কিছু সেকশনের কাজ শিগগিরই শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনা, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।