
সংগৃহীত ছবি
ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের আগ্রাসনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন চরম অনিশ্চয়তায় ঢাকা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ছুটিতে আসা প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, অন্যদিকে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্ক আর অর্থকষ্টে। নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার এই ত্রিমুখী চাপ এখন প্রবাসীদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, অনেক দেশ ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশিরা রয়েছেন চরম ভোগান্তির মধ্যে। দুবাই প্রবাসী ইমরান আহমদ জানান, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে তারা মহাবিপদে আছেন। বাসা থেকে বের হতে যেমন ভয় লাগে, তেমনি ভেতরে থাকলেও আতঙ্ক কাটে না। অন্য দেশগুলো তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিলেও তারা এখনো দিশাহারা অবস্থায় আছেন এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত চার দিনে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রায় ১৮২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫ মার্চ পর্যন্ত কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এতে করে বিমানবন্দরে এসে শত শত প্রবাসীকে অনিশ্চিত অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হচ্ছে। সময়মতো কাজে ফিরতে না পারলে কর্মস্থলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো প্রবাসী সমস্যার সম্মুখীন হলে তা জানানোর জন্য চার সদস্যের কমিটি এবং ভিসা জটিলতা নিরসনে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সংকট নিরসনে তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন এবং দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে ভিসা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এরই মধ্যে কাতার সরকার এক মাসের জন্য সব ধরনের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার জন্য কোনো ফি বা আবেদনের প্রয়োজন হবে না। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছুটিতে এসে আটকে পড়া কর্মীরা ফ্লাইট চালু হলে ঢাকা দূতাবাস থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। রিয়াদ ও দাম্মামের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও প্রবাসীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন স্থাপনা বা তেল শোধনাগারের আশেপাশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের প্রস্ততি এবং প্রচারণার মাধ্যমে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর তারা জোর দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু কূটনৈতিক টানাপোড়েনেই সীমাবদ্ধ নয়; হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনে তা তৈরি করেছে গভীর অনিশ্চয়তা। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—নিরাপত্তা ও কর্মস্থলে যোগদানের নিশ্চয়তা।






































