রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২২ মার্চ ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান কী আসলেই ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে!


deago

ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি

ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে এবং অন্যটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।

এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যও হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনাকে “বেপরোয়া” বলে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করা।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পূর্বে ধারণা করা ২,০০০ কিলোমিটারের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। এতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে, ইরান ৪,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ইউরোপের বিভিন্ন শহরেও পৌঁছাতে সক্ষম।

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত। অতীতে ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলার ঘটনা সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। হামলার দাবির বিপরীতে ইরানের অস্বীকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে।