বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৫ মার্চ ২০২৬, ৬:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

গণহত্যা দিবস আজ


Gono hotta 71

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ—গণহত্যা দিবস

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ—গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরতম হামলা চালায়। মুহূর্তেই ঘুমন্ত শহর ঢেকে যায় মৃত্যুর ছায়ায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু স্থানে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রাতটিকে পরিণত করা হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বীভত্স কালরাত্রিতে।

জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তে ২০১৭ সাল থেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হলেও এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। দিনটি স্মরণে সব সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে, তবে জরুরি স্থাপনা এর বাইরে থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালির ইতিহাসে বেদনার ভয়াবহ অধ্যায়, যা জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পথে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস তরুণদের জানানোয় গুরুত্ব দেন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২৫ মার্চ ছিল সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে পাকিস্তানি সেনারা শিক্ষক, ছাত্র, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি সেনারা ট্যাংক ও আধুনিক অস্ত্র নিয়ে শহরে নেমে আসে। মুহূর্তেই চারদিকে শুরু হয় গুলিবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ। রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল, নীলক্ষেতসহ বহু স্থানে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়। ঢাকায় রাতারাতি সৃষ্টি হয় লাশের শহর—স্তম্ভিত হয় বিশ্ববিবেক।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আর বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। রাতে কোনো আলোকসজ্জা রাখা যাবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন—একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য সরকার জোরালোভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে এই ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত; তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি আদায় জরুরি।