
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি) চাপে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আইএমএফসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক উৎসের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে সিনিয়র অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে গভর্নর বলেন, পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট, বাড়তি মূল্য এবং রিজার্ভের ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নীতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য; পাশাপাশি খরচ নিয়ন্ত্রণ করে মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে রিজার্ভে প্রভাব পড়তেই পারে। স্থির দামে যেসব দেশের সঙ্গে জ্বালানি আমদানির চুক্তি রয়েছে, সেখানে ঝুঁকি কিছুটা কম।
গত সপ্তাহেই অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ৪৭০ কোটি ডলারের আইএমএফ কর্মসূচি গত বছর ৫৫০ কোটি ডলারে বাড়ানো হয়। ইতোমধ্যে পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার, আর আগামী জুলাইয়ে ষষ্ঠ–সপ্তম কিস্তি মিলিয়ে আরও ১৩০ কোটি ডলার ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সভায় গভর্নর আর্থিক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রচেষ্টার অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, আন্তর্জাতিক এজেন্সির মাধ্যমে অধিকাংশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এখন নীতির কেন্দ্রবিন্দু। কৃষি ও এসএমই খাতে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্ধ ফ্যাক্টরিগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকরা বক্তব্য দেন।






































