শুক্রবার । মে ২৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ মে ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভারতে বিষাক্ত মদপানে ৪৮ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু, মূল হোতাসহ আটক ৭


india-news

আসামি যোগেশ ওয়ানখেড়ে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলায় বিষাক্ত মেথানল মিশ্রিত দেশি মদ পান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে এসব মৃত্যুকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত বিষাক্ত মদের বড় চক্রের কাজ বলে বেরিয়ে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মদ পান করার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ভুক্তভোগীদের তীব্র বমি ও মারাত্মক পেট ব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের সবার মধ্যেই তীব্র মাথা ঘোরা এবং পেট ব্যথার মতো একই ধরনের উপসর্গ লক্ষ্য করা গেছে।

ভয়াবহ এই মৃত্যুর ঘটনায় পুনের ফুগেওয়াড়ি ও দাপোডি এলাকায় ১৩ জন এবং হাদাপসার ও কালেপাদাল এলাকায় আরও ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর পুলিশ বিষয়টিকে সাধারণ মৃত্যু না ধরে ‘হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য অপরাধ’, ‘বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা’ এবং ‘নিষেধাজ্ঞা আইন’ লঙ্ঘনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

এই ঘটনার মূল হোতা যোগেশ ওয়ানখেড়ে পুলিশে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, যোগেশ পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় মেথানল মিশ্রিত এই বিষাক্ত মদ সরবরাহ করতেন।

পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার বিনয় চৌবে জানিয়েছেন, এই চক্রের সাথে জড়িত মোট সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে এবং দুজন রাজ্য আবগারি দপ্তরের হেফাজতে রয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজ্য আবগারি দপ্তরের পুলিশ সুপার অতুল কানাডে জানিয়েছেন, অধিক মুনাফার আশায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবৈধভাবে মদের মধ্যে মারাত্মক রাসায়নিক মেথানল মিশিয়ে দিয়েছিল, যার কারণেই এই গণ-মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চক্রের বাকি সদস্যদের শিকড় টেনে বের করতে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, দাপোডি, ফুগেওয়াড়ি ও হাদাপসার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ দেশি মদের ব্যবসা চলছিল। কিন্তু পুলিশ ও আবগারি বিভাগ আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনারদের দ্রুত ও কঠোর অ্যাকশন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, পুরো চক্রের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।