
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা শুধু বিজয়কে ঘিরে নয়—ভোটাররা কেমন মানদণ্ডে নেতা বেছে নিচ্ছেন, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে)-এর জয় নতুন করে একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—এটি কি কেবল রাজনৈতিক সাফল্য, নাকি এর পেছনে তারকাপূজার সরাসরি প্রভাব আছে?
নির্বাচনের আগে অনেকেই ভেবেছিলেন, বিজয়ের নতুন দল বড়জোর কিছু আসন পেতে পারে। কিন্তু ফলাফল সেই ধারণা ভেঙে দেয়। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তার দল সর্বাধিক ১০৮টি আসন জিতে নেয়, এমনকি রাজ্যের অনত্যম প্রধান দল ডিএমকের শক্ত ঘাঁটিতেও বড় ধাক্কা দেয়। ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন এবং তার পরে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি দুজনই এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে বিজয়ের সভাগুলো ছিল অনেকটাই সিনেমার প্রিমিয়ারের মতো। ভক্তদের উন্মাদনা, স্লোগান, তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল আবেগনির্ভর। অনেক ক্ষেত্রেই নীতি বা ইশতেহারের চেয়ে তার উপস্থিতিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিজয়ের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় বিতর্ক থাকলেও, সেগুলোর প্রভাব নির্বাচন এবং নির্বাচনের ফলাফলে পড়েনি বললেই চলে। বরং সামাজিক মাধ্যমে তার সমর্থকেরা এসব বিষয়কে প্রায়ই গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে প্রচলিত রাজনীতির মতো বিতর্ক এখানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।
এই প্রেক্ষাপটে বিজয়ে সাথে আরেকজনের তুলনা সামনে চলে আসে। ভারতের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। প্রশান্ত কিশোর যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করেও বিহারে সাফল্য পাননি। সেখানে বিজয় মাত্র দুই বছরের মধ্যে বড় জয় পেয়েছেন। এতে বোঝা যায়, জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি অনেক সময় দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকরা তাই মনে করেন, এই ফলাফল শুধু একজন নেতার সাফল্য নয়, বরং সমাজে তারকাপূজার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে, সেটিও তুলে ধরে। এখানে পরিচিতি অনেক সময় জবাবদিহিতার জায়গা দখল করে নিচ্ছে, আর আবেগ ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্নটা শুধু বিজয়কে ঘিরে নয়—ভোটাররা কেমন মানদণ্ডে নেতা বেছে নিচ্ছেন, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল







































