
ফরাসি উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের জীবনভিত্তিক নাটক ‘জেড’
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ঐতিহাসিক চরিত্র এবং তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের জীবন ও বিদ্রোহের পটভূমি নিয়ে মঞ্চে আসছে বিশেষ নাটক ‘জেড’। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলের নবগঠিত শিল্পসংস্থা ‘থিয়েটার দ্য লা মেজঁ ফ্রঁসেজ’-এর উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক নাট্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
‘ফ্রেঞ্চ হাউস থিয়েটার ডিপ্লোমা–বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’ শিরোনামের এই প্রকল্পের আওতায় নাটকটি প্রযোজিত হবে। এতে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার সেই উত্তাল অধ্যায় এবং সেনানিবাসে তাঁর বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে। নাটকটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এতে প্রয়াত সংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খান এবং শহীদ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সঙ্গে জিয়ার একটি কাল্পনিক মেলবন্ধন দেখানো হবে।
এই পুরো আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার চয়ন খায়রুল হাবিব। তিনি নাটকটির আবাসিক লেখক, নির্দেশক ও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী একটি অনলাইন থিয়েটার ডিপ্লোমা কোর্সও পরিচালনা করা হবে, যেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের নাট্যচর্চার সুযোগ পাবেন।
আয়োজক সংস্থা জানিয়েছে, ‘জেড’ নাটকটি ইতিমধ্যে বাংলা ভাষায় রচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হবে। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাটকটি মঞ্চস্থ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে নাটকটি বাংলাদেশ জাতীয় কপিরাইট অফিসে জমা দেওয়া হবে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হবে।
এই উদ্যোগে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে ‘নন্দন বিশ্বমেলা’ এবং ডিজাইন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন জুনায়েদ ইউসুফ। প্রজেক্ট লিয়াজোঁ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. শাহনাজ পারভীন এবং ফরাসি অংশের সমন্বয় করছেন প্যাট্রিসিয়া গিদাস।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টে ডিপ্লোমা কোর্স শুরু হবে এবং নভেম্বর থেকে শুরু হবে সরাসরি মহড়া। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মাঠে ‘জেড’ নাটকের প্রাথমিক ওয়ার্কশপ প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলা নাট্যচর্চাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।











































