বৃহস্পতিবার । মে ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২১ মে ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর


এক সপ্তাহের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ। এ হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। এমন পরিস্থিতিতে  এক সপ্তাহের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংবাদমাধ্যমকে এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার (৮) মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা।

জবানবন্দিতে সোহেল জানান- মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় ছোট্ট রামিসা।

শিশুটির মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিল। একপর্যায়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলেও জবানবন্দিতে জানায় ঘাতক। জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোনো শত্রুতাও ছিল না তার।

বুধবার রাতে রামিসার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়িতে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।