
ফাইল ছবি
আজ পবিত্র জিলকদ মাসের ২৮ তারিখ। আগামীকালই হতে পারে এই মাসের শেষ দিন। প্রতিটি মুমিনের জন্য বর্তমান সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর পরপরই শুরু হচ্ছে জিলহজ মাসের ফজিলতপূর্ণ দিনগুলো। কোরবানি মূলত একটি আর্থিক ইবাদত হলেও মহান আল্লাহ ধনী-গরিব সবার জন্যই এই সময়ে সওয়াব লাভের সুব্যবস্থা রেখেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আগে থেকেই বিশেষ কিছু প্রস্তুতি ও আমল নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। যদি কেউ সেই অনুযায়ী আমল করতে পারেন, তবে তিনি সামর্থ্যবান না হলেও কোরবানির পূর্ণ সওয়াব অর্জন করতে পারবেন।
এই বিশেষ আমলটি হলো— জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে ঈদের দিন কোরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা। যারা কোরবানি করবেন এবং যারা সামর্থ্য না থাকায় কোরবানি করতে পারবেন না, উভয় শ্রেণীর মানুষের জন্যই এই আমলটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)।
হাদিস শরিফে আরও এসেছে, এক অসচ্ছল ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিজের কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকার কথা জানালে আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘না (তোমার পশুর দরকার নেই); বরং সেদিন (ঈদের দিন) তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটিই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৫৭৫)।
এই হাদিসের মাধ্যমে রাসুল (সা.) অসচ্ছল ব্যক্তিদেরও সচ্ছল মুসলমানদের মতো কোরবানির ঈদের পরিপূর্ণ ফজিলত অর্জনের পথ বাতলে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানরা একদিকে যেমন হাজিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার সুযোগ পান, অন্যদিকে কোরবানি না করেও সমপরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হতে পারেন।
ইসলামে মানুষের ইখলাস ও নিয়তের বিশুদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহিহ নিয়তের কারণে মানুষ অনেক সময় এমন আমলের সওয়াবও পেয়ে যায়, যা করার সামর্থ্য বাস্তবে তার ছিল না। হাদিস অনুযায়ী (ইবনে মাজাহ : ৪২২৮), ভালো কাজের সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি মনে-প্রাণে তীব্র ইচ্ছা পোষণ করে, তবে মহান আল্লাহ তার নিয়তের কারণে তাকে মূল আমলকারীর সমান পুরস্কার দান করেন।
তাই জিলহজ মাসের এই বরকতময় সময়ে প্রত্যেক মুমিনের উচিত, চাঁদ ওঠার আগেই চুল-নখ কাটার মতো প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে নেওয়া এবং জিলহজের চাঁদ দেখা দিলে বিশেষ এই আমল ও সহিহ নিয়তের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।











































