
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে এবং তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। খবর আল আরাবিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মূল বিষয়গুলো হচ্ছে-
১. স্থল, নৌ ও আকাশপথসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক, পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
২. উভয় পক্ষ সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করবে।
৩. সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে এবং প্রচারযুদ্ধ বা ‘মিডিয়া ওয়ার’-এরও অবসান ঘটবে।
৪. একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি থাকবে।
৫. আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
৬. চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
৭. বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে সাত দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
৮. চুক্তির শর্ত মেনে চলার বিনিময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
৯. আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পালন করবে।
১০. উভয় দেশ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ভালো কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না। আগামী কয়েক দিনে কী হয়, সেটাই দেখা যাক।’
অন্যদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়টি এখনো আলোচনার সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।










































