
ফাইল ছবি
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্যাস লিকেজে ছয় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ওই ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আরও পাঁচ শিশুর চিকিৎসা চলছে। আজ বুধবার (২৭ মে) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তবে চিকিৎসাধীন এই শিশুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন বাকি শিশুদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত কয়েকজন শিশুর শরীর নীল বর্ণ ধারণ করেছে বলেও জানা গেছে।
এই ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যদি হাসপাতালের কোনো অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে এর প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এখানে পাঁচজন মায়ের কোল খালি করে ছয় নবজাতক মারা গেছে। আরও চার থেকে পাঁচ শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ছাড়া এই শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “হাসপাতালের এই ভবনটি নির্মাণে যথাযথ বিল্ডিং কোড মানা হয়েছিল কি না, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ঠিক কতজন শিশুকে বের করতে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত শিশুদের তথ্যে কোনো গরমিল আছে কি না এবং মৃত শিশুদের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল—এই সবকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।”
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারি আর ক্ষোভে মগবাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।










































