
স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ফুটবল বিশ্বে নজর কেড়েছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে তিনবার লা লিগা জয়ের পাশাপাশি স্পেনকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এখন অনেকের চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা এই তরুণ।
ইয়ামালের এই উত্থান দেখে বিস্মিত হয়েছেন তার শৈশবের কোচরাও। বার্সেলোনার যুব একাডেমির কোচ মার্ক সেরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই ইয়ামালের মধ্যে এমন কিছু ছিল, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
সিএনএন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক বলেন, ‘প্রথম দিনই আমরা বুঝেছিলাম, ওর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। সে অন্যদের মতো খেলত না, ভিন্ন কিছু করত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, মনে হতো কেউ তাকে এসব শেখায়নি। যেন জন্মগতভাবেই এসব দক্ষতা নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো এটা তার রক্তে ছিল, অথবা রাস্তায় খেলতে খেলতেই শিখেছে। তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, অন্য বাচ্চাদের মধ্যে যা ছিল না, ইয়ামালের মধ্যে সেটাই ছিল।’
স্থানীয় ক্লাব লা তোরেতায় খেলার পর মাত্র সাত বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামাল। এই একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।
মার্ক সেরা যখন ইয়ামালের কোচ ছিলেন, তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১০ বা ১১ বছর। সেসময়ই তিনি ইয়ামালের অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখেছিলেন। তবে এত অল্প বয়সে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবেন, তা কল্পনাও করেননি।
২০২৩ সালে মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হয় ইয়ামালের। এর মাধ্যমে শতাধিক বছরের ইতিহাসে ক্লাবটির সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।
অভিষেকের পর থেকেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিতে শুরু করেন ইয়ামাল। দ্রুতই বার্সেলোনার আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন এবং জাতীয় দলেও নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন।
বর্তমানে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। গতি, ড্রিবলিং, দূরপাল্লার শট এবং দুর্দান্ত পাসিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। প্রায় অসম্ভব পরিস্থিতি থেকেও সুযোগ তৈরি করতে পারেন ইয়ামাল।
মার্ক বলেন, ‘১০ বা ১১ বছরের একটি ছেলে এমন কিছু করতে পারে, তা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। মাঠে সে এমন পাস দিত, যা অন্যরা কল্পনাও করতে পারত না। অনেক সময় মনে হতো, সে কোচের চেয়েও বেশি কিছু জানে।’
চ্যালেঞ্জ যত বড়, ইয়ামাল তত ভয়ংকর
মার্ক সেরার মতে, ইয়ামালের দ্রুত সাফল্যের পেছনে তার মানসিকতাও বড় ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘সহজ ম্যাচে তাকে কখনও কখনও উৎসাহ দিতে হতো। কিন্তু বড় ম্যাচ বা গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে কখনও চিন্তা করতে হয়নি। আমরা জানতাম, সে নিজের সেরাটা দেবে। আমার মনে হয়, সে চ্যালেঞ্জ উপভোগ করে।’
কোচ হিসেবে ইয়ামালের পাশে থাকতে পারাকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন সেরা।
ইয়ামাল কী নতুন মেসি?
লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা এবং আক্রমণভাগে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণে ছোটবেলা থেকেই ইয়ামালের সঙ্গে লিওনেল মেসির তুলনা করা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, ২০০৭ সালে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, তখনকার তরুণ মেসি শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে আছেন।
তবে এসব তুলনা নিয়ে ইয়ামালকে খুব একটা ভাবতে দেখা যায় না। তিনি নিজের খেলায় মনোযোগী।
মার্ক মনে করেন, ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের সেরাদের একজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইয়ামালের।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে যেন নিজের মতো করে খেলতে পারে এবং খেলা উপভোগ করে। যদি আগামী ১২-১৩ বছর এভাবেই উন্নতি করতে থাকে, তাহলে আমরা তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দেখব।’














































