
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম
মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভারতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম অ্যাপে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে সংগঠিত চক্রগুলো এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়ের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি কঠোর ধারার আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেয়।
তবে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, এই আইনি বিধান অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সীমিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দাবি করে, তারা সবসময় আইন মেনেই এবং জনস্বার্থে এসব পদক্ষেপ নেয়।
গত মাসে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) বাতিল করে সরকার। কারণ, পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেও আন্দোলন দেখা যায়।
সরকার আগামী ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।
জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) জানিয়েছে, ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য পুনঃপরীক্ষায় জালিয়াতি চক্রগুলো যাতে টেলিগ্রাম ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারণা করতে না পারে, সে কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার ভারত। দেশটিতে টেলিগ্রাম অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও মেসেজিং সেবার ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম।















































