
জাতীয় সংসদে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম রাখায় গত সাড়ে তিন মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ১৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সোমবার জাতীয় সংসদে তিনি জানান, মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও দেশীয় দামের চেয়ে বেশি। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের আমদানি খরচ ১৭৫ টাকা ২২ পয়সা এবং অকটেনের ১৬০ টাকা ৭০ পয়সা হলেও জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও বিপিসিকে প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, লোকসান সত্ত্বেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে গত তিন মাস ধরে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমলে দেশের বাজারেও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও জানান, দেশে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও ২০০৫ সাল থেকে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাক্ষেত্র থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। পাশাপাশি এলপিজির সহজলভ্যতার কারণে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে দৈনিক ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
এ ছাড়া মন্ত্রী জানান, দেশের সব কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের সচল ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট।






































