সোমবার । জুন ২২, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২২ জুন ২০২৬, ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার পর মুক্তিপণ দাবি


imon

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন/ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত ইমনকে চাকরির প্রলোভনে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ইমনকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর পরিবারের কাছে ফোন করে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিল ঘাতক।

নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সাইপ্রাসের ওরোক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় নিজের প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ওই দিন রাতেই তিনি এক বন্ধুর মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে নিজের লোকেশন পাঠিয়েছিলেন, যার পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, বাসে যাতায়াতের সূত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমন ও অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়েছিল। ধৃত যুবকের দাবি—ইমন নাকি একবার তাকে অপমান করেছিলেন, যার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, খুনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ আদায়। ১২ জুন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইমনকে চাকরির লোভ দেখিয়ে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যায় ওই যুবক। সেখানেই তাকে হত্যা করে নির্জন স্থানে কবর খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইমনকে খুন করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ঘাতক যুবক ইমনেরই ফোন ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইমন অপহৃত হয়েছেন দাবি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মূলত, হত্যার ঘটনাটি আড়াল করতে এবং অর্থ হাতিয়ে নিতেই ঘাতক এই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিল।

গ্রেফতারের পর তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত যুবক নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ কোফিনু এলাকার সেই গোপন কবর থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও ইমনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি সম্পূর্ণ পচনধরা অবস্থায় পাওয়ায় পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

মরদেহ উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এই ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদ্ঘাটনে সাইপ্রাস পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।